ব্রিটিশ রাজপরিবারকে নিয়ে নেটফ্লিক্সের ঐতিহাসিক সিরিজ ‘দ্য ক্রাউন’। শেষতম সিজনের প্রথম অংশ হিসেবে চারটি এপিসোড গত ১৬ নভেম্বর মুক্তি পায়। দ্বিতীয় ভাগ মুক্তি পাবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে গতকাল জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজটির শেষতম ট্রেলার প্রকাশ করেছে নেটফ্লিক্স। এতে একদিকে উঠে এসেছে রানী এলিজাবেথের (ইমেল্ডা স্টনটন) স্মৃতিকাতরতা ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চিন্তা, অন্যদিকে প্রাধান্য পেয়েছে প্রিন্স উইলিয়াম (এড ম্যাকভি) ও কেট মিডলটনের (মেগ বেলামি) রোমাঞ্চ। চিত্রিত হয়েছে কামিলা পার্কারের সঙ্গে চার্লসের বিয়ে, প্রিন্সেস মার্গারেটের মৃত্যু ও হ্যারির প্রসঙ্গও। গত মাসে মুক্তি পাওয়া চার এপিসোডে প্রিন্সেস ডায়ানা ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাকে তুলে আনা হয়।
পড়াশোনার জন্য প্রিন্স উইলিয়ামকে ইটন কলেজে যেতে হয়। নতুন পরিবেশে তার খাপ খাইয়ে চলতে থাকা সংগ্রামের পাশাপাশি রয়েছে পরিবারের সঙ্গে টানাপড়েন। পরিবার চায় যোগ্য উত্তরসূরি তৈরি করতে। সেখান থেকে তিনি চলে যান ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজে। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ছাত্র ছিলেন তিনি। আর তার প্রিয় মুখ কেট মিডলটন। এদিকে রানী এলিজাবেথের বোন প্রিন্সেস মার্গারেটের স্বাস্থ্য হঠাৎ স্ট্রোকে ভেঙে পড়ে। মৃত্যুবরণ করেন সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই। মা ও বোনকে হারানো এলিজাবেথ নজর দেন ঐতিহ্য ধরে রাখার দিকে। অনুমোদন দেন চার্লস ও কামিলার বিয়ের। নয় দশক ধরে আগলে রাখা রাজত্বের প্রান্তে পৌঁছে তিনি সত্যিকার অর্থেই ভাবতে বসেন ভবিষ্যতের কথা। তার অনুপস্থিতিতে সিংহাসনের ভাগ্যের কথা।
সিরিজে প্রিন্স ফিলিপ চরিত্রে দেখা যাবে জনাথন প্রাইসকে। এছাড়া প্রিন্সেস মার্গারেটের চরিত্রে লেজলি ম্যানভিল, প্রিন্সেস অ্যানির চরিত্রে ক্লডিয়া হ্যারিসন ও মুহম্মদ আল ফায়েদ চরিত্রে রয়েছেন সেলিম ডাও। প্রথম সিজনের পাটাতন তৈরি হয়েছে চল্লিশের দশকের গল্প নিয়ে। আর ইতি টানা হচ্ছে ২০০৫ সালেই। নির্মাতা পিটার মরগান মনে করেন, ২০০৫ সালই সিরিজ শেষ করার যথাযথ জায়গা। এটা হলেই সিরিজটার ঐতিহাসিকতা থাকবে। সাংবাদিকতাসুলভ অনুসন্ধানে পরিণত হবে না। ভ্যারাইটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মরগান জানিয়েছেন, কুইন এলিজাবেথের মৃত্যু তাকে সিরিজের শেষদিকটাতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। তার ভাষায়, ‘আমরা সবাই রানীর শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। কতটা গভীরভাবে মানুষ সেদিনটাকে উপলব্ধি করেছে, তা আমরা জানি।’
দ্য ক্রাউন সিরিজটির প্রথম সিজন মুক্তি পায় ২০১৬ সালে। নির্বাহী প্রযোজক পিটার মরগান, সুজানা ম্যাকি, অ্যান্ডি হ্যারিস ও রবার্ট ফক্স। দীর্ঘ এ সময়ে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে সিরিজটি। ঝুলিতে তুলেছে প্রাইমটাইম অ্যামি ও গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস।
সূত্র: ভ্যারাইটি










