একজন গ্যাংস্টারের চরিত্রে ‘কোম্পানি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে রাজসিক আবির্ভাব ঘটে অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের। এ সিনেমার জন্য তিনি সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। রাম গোপাল ভার্মা পরিচালিত ছবিটি ২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল। একই বছর মুক্তি পাওয়া রোমান্টিক সিনেমা ‘সাথিয়া’য় তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। যশরাজ ফিল্মসের প্রযোজনায় সিনেমাটিতে অভিনয় করে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার মনোনয়নও লাভ করেন। এরপর ২০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। পরপর দুটো সিনেমা হিট করার পর বলিউডে তার ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা স্বাভাবিক ছিল। তবে বেশিদিন তা থাকেনি। ক্যারিয়ারে তাকে যেতে হয়েছে নানা উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে। পুরস্কারজয়ী সিনেমায় অভিনয় করেও তাকে বহুবার কর্মহীনতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বহুবার প্রত্যাখ্যানের শিকার হয়েছেন। সাহসের সঙ্গে তা মোকাবেলা করে ফিরে এসেছেন বারবার।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিবেক তার এ যাত্রা সম্পর্কে কথা বলেন। তার ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভালো অভিনয় এবং বক্স অফিসে হিট করা সিনেমা ঝুড়িতে থাকা সত্ত্বেও একসময় তার কোনো কাজ ছিল না। এ বিষয়েও তিনি কথা বলেন।

বিবেক জানান, চরিত্র নির্বাচন তার কাছে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। বেছে বেছে এমন সব চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে চান, যেগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো অর্থ বহন করে। অর্থহীন, অসার কোনো চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা তার নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি এ ধরনের অভিনয় না করার। এমন না যে আমি করিনি। আগে করেছি এবং প্রতিবারই মর্মপীড়া অনুভব করেছি। অন্য কারো পরামর্শে অভিনয় করেছি কিন্তু পছন্দ করতে পারিনি। আমি আমার অন্তরের কথা শুনিনি। আমি টাকার জন্য অভিনয় করি না। শিল্পের ক্ষেত্রে টাকা একটি গৌণ বিষয়। আমার ক্ষেত্রে শিল্প হলো প্রথমে সরস্বতী, তারপর লক্ষ্মী। এ ধরনের একটি সংস্কৃতি থেকেই আমি সিনেমায় এসেছি। যা কিছু করি, চেষ্টা করি সচেতনভাবে করতে। ইনসাইড এজের সাফল্যের পর (যা আমাকে নতুন একটি প্লাটফর্ম দিয়েছে) প্রতি মাসে, প্রতি সপ্তাহে শো কিংবা সিনেমার প্রস্তাব আমার কাছে এসেছে। গৎবাঁধা একটা অবস্থা তৈরি হচ্ছিল। আমি সেটির সঙ্গে থাকতে চাইনি। অপেক্ষা করেছিলাম। ২০১৭-২২ এ পাঁচ-ছয় বছরে আমি কেবল “ইনসাইড এজ” ওয়ান, টু, থ্রি ও “ধারাবি ব্যাংক”-এ কাজ করেছি। আর এখন রোহিত শেঠির “ইনডিয়ান পুলিশ ফোর্স”-এ অভিনয় করছি।’

বিবেক জানান, জীবন তাকে শিখিয়িছে গৎবাঁধা ব্যবস্থায় আটকে না থেকে আলাদা কিছু ভাবতে। তিনি বলেন, ‌‘কত বড় প্রযোজক কিংবা কত বড় সেটআপ, তা আমি দেখি না। যদি আমি হৃদয় থেকে সাড়া না পাই, না করে দিই। আমি মনে করি ভক্তদের প্রতি আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে, যারা ২০ বছর ধরে সব উত্থান-পতনে আমার পাশে থেকেছে। তাই আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে চেষ্টা করি। যদি নতুন কোনোকিছু করার চেষ্টা করি, তাদের কাছে তা পরিষ্কার করি। যদি ভালো কিছু না হয়, আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর এটি যদি সফল হয়, তাদের ধন্যবাদ জানাই। দর্শকের কাছে আমি সবসময় স্বচ্ছ থাকতে চেয়েছি।’


সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস