পশ্চিমবঙ্গের সিনেমার বাজার এখন পড়তি দশায়। একটা সময় জিৎ ও দেব ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সেরা দুই নায়ক। মিঠুন চক্রবর্তীর সিনেমাও ভালো করেছে। সোহম চক্রবর্তী কিছুদিন জনপ্রিয়তায় ছিলেন। এরপর একটা দীর্ঘ বিরতি। এখনো তা কাটিয়ে উঠতে পারছে না কলকাতার ইন্ডাস্ট্রি। সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলছেন জিৎ। তার মত হলো পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন কোনো নায়ক উঠে আসছে না।

সম্প্রতি নিরাজ পাণ্ডের ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন জিৎ। সঙ্গে আছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এ সিরিজ জিতের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়। টলিউডের সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও এই প্রথম বলিউডে পা রাখতে চলেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পার করে হিন্দিতে অভিষেক হলো তার। আগে কেন নয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরকে আমিও একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতাম। অবশেষে তিনি উত্তর দিয়েছেন। তাই আমার কাছে এ সিরিজ এসেছে।’

জিৎ বিশ্বাস করেন ভাগ্য মানুষকে তার গন্তব্যে পৌঁছতে সাহায্য করে। তাই পথে দেরি হলেও তার কোনো রকম আক্ষেপ নেই। এ সিরিজ়ে আরো একবার পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিৎ। অতীতেও একাধিকবার দর্শক তাকে এ অবতারে দেখেছেন। সেখানে অর্জুন মৈত্র চরিত্রটি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? জিৎ বললেন, ‘একাগ্রতা ও নিষ্ঠার অভাব থাকলে যেকোনো চরিত্রই তখন কঠিন মনে হতে পারে। আমার কাছে পরিচালক শেষ কথা। তিনি যা চাইছেন, সেটাই ফ্লোরে দেয়ার চেষ্টা করি। তাতে বিষয়টা আরো সহজ হয়ে যায়।’

অতীতে টলিউড বহুবার উদ্যোগী হয়েছে এক ছবিতে প্রসেনজিৎ, দেব ও জিৎকে নিয়ে কাজ করতে। জিৎ প্রযোজিত ছবিতে প্রসেনজিৎ অভিনয় করলেও, এই প্রথম তারা একসঙ্গে। বিষয়টি আগামী দিনে জাতীয় পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের ইন্ডাস্ট্রিতে বহু বন্ধ দরজা খুলে দিতে পারে। এ নিয়ে জিৎ বলেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী। বাংলা থেকে অনেকেই এখন মুম্বাইয়ে কাজ করছেন। তাদের কাজ প্রশংসিতও হচ্ছে। আমার ক্ষেত্রে প্রথম কাজ। তাই দর্শকের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’

জিৎ বহুদিন ধরে টালিগঞ্জের সেরা নায়কদের একজন। নিজের জায়গা ধরে রাখতে হলে একজন নায়ককে নানাভাবে নিজেকে বদলাতে হয়। এ মুহূর্তে জিতের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ভালো গল্প। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, গল্প ভালো হলে তা নায়ক ও খলনায়ককে প্রতিষ্ঠা দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ রকম বহু ব্লকবাস্টার ছবি রয়েছে, যার একটি চরিত্র বা সংলাপ আজও মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে।’

কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক অবস্থা তো ভালো নয়। গত কয়েক বছর দেব ও জিতের পর নতুন ‘নায়ক’ পাওয়া যায়নি। সমস্যা কোথায়? জিৎ নিজেও এ নিয়ে কিছুটা তার হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলা থেকে কেন নতুন হিরো উঠে আসছে না, সেটা আমিও বুঝতে পারছি না! আগে বাংলায় নতুন নায়ক আসুক, তারপর তো তাকে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানো হবে। এটা আমাদের প্রত্যেকের পাশাপাশি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির দুর্ভাগ্য।’

জিৎ বিশ্বাস করেন, নতুন প্রজন্মই ইন্ডাস্ট্রিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। নতুন ‘নায়ক’ তৈরি হওয়ার জন্য তিনি অভিনেতাদের, এমনকি ইন্ডাস্ট্রিকে সাহায্য করতে রাজি। জিৎ বলেন, ‘আমি তো নতুনদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দই করি। সে রকম কেউ এলে আমি নিজেও তার ছবি প্রযোজনা করতে ইচ্ছুক।’

পশ্চিমবঙ্গের ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেছেন এ অভিনেতা। এর আগে ‘চেঙ্গিজ’কে জাতীয় পর্যায়ে মুক্তি দিয়েছিলেন জিৎ। খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টারের মাধ্যমে তার দর্শক বাড়লে, সর্ব ভারতীয় দর্শকের কথা মাথায় রেখেও ভবিষ্যতে আরো সিনেমা তৈরির ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান জিৎ।