আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে তিনি জন্ম নেন। মধুসূদন দত্ত ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বাঙালি কবি ও নাট্যকার। এছাড়া তিনি ছিলেন সে সময়ের বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি, প্রথম সার্থক নাট্যকার। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার পথনির্মাতা।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল বিকাল ৫টায় কমলগঞ্জের ঘোড়ামারায় মনিপুরি থিয়েটারের নটমণ্ডপে ‘‌কহে বীরাঙ্গনা’ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ অবলম্বনে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা, একক অভিনয় করেছেন জ্যোতি সিনহা। সংগীতে শর্মিলা সিনহা, বাদ্যে বিধান সিংহ, মুদ্রাশিল্পী হিসেবে আছেন স্বর্ণালী, শ্যামলী, আশা, মনীষা, মিতালী, ভাগ্যলক্ষ্মী প্রমুখ।

শকুন্তলা, দ্রৌপদী, দুঃশলা, জনা এ চার নারীচরিত্রের লেখা পত্রকাব্যের মধ্য দিয়ে নাটকটিতে নারীর প্রেম-বিরহ-বঞ্চনা-ঈর্ষা-ক্ষমাপরায়ণতা ও দ্রোহের বহুমাত্রিক রূপকে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রযোজনাটি এর আগেও দেশ ও দেশের বাইরে মঞ্চায়িত হয়েছে। প্রদর্শনীর আগে মাইকেলের সাহিত্য বিষয়ে বক্তৃতা করবেন কথাশিল্পী প্রশান্ত মৃধা। এছাড়া বেলা ৩টায় মাইকেলের কবিতা নিয়ে শিশু-কিশোরদের আবৃত্তি প্রতিযোগিতা থাকবে।

মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা ও বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের পথিকৃৎ ছিলেন। নাটক, প্রহসন, মহাকাব্য, পত্রকাব্য, সনেট, ট্র্যাজেডিসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অমর সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উন্নত মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি বাংলা সাহিত্যে উপহার দেন শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, কৃষ্ণকুমারী, মেঘনাদবদ কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশদপদী কবিতাবলী, হেক্টরবধের মতো বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।