দক্ষিণী সিনেমা যত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে বলিউডের দৈন্য। সিনেমা ও ব্যবসার দুরবস্থা নিয়ে চিন্তিত বলিউড। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমসহ নানা জায়গায় কথা হচ্ছে এসব নিয়ে। বলিউডের সঙ্গে কোনো না কোনো তুলনা চলে আসে দক্ষিণের। কখনো একটি ইন্ডাস্ট্রিকে ছোট করে বক্তব্য দেয়ার ঘটনাও দেখা গিয়েছে। তবে বলিউড নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে নারাজ বেশির ভাগ দক্ষিণী তারকা। সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভে এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয় কেজিএফ তারকা যশকে। তিনি জানান, এসব বিভাজনে তার বিশ্বাস নেই। দর্শক ভালো সিনেমা চায়, তা যে ইন্ডাস্ট্রিরই হোক না কেন। যশের ভাষায়, ‘‌এসব বলিউড, স্যান্ডালউডে আমি বিশ্বাস করি না। এ উডগুলোকে জ্বালিয়ে দিতে পারলে ভালো হতো। কথা হলো আমরা খেটে কাজ করি। অন্য যেকোনো তারকার মতো করেই আমাদের দেখা উচিত।’

যশের কথাগুলো রকির চরিত্রের সঙ্গে মেলে। তবে তিনি যৌক্তিক কথা বলেছেন। এক ইন্ডাস্ট্রির প্রশংসা করতে অন্য ইন্ডাস্ট্রিকে ছোট করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‌‘‌দক্ষিণ ভারত ভালো করেছে মানে বলিউড শেষ হয়ে যাচ্ছে, এসব ফালতু কথা। এসব বাদ দিয়ে ভালো কাজের দিকে মন দেয়া দরকার। দর্শক ভালো সিনেমা দেখবে। সেটা বলিউড, কর্ণাটক না অন্য রাজ্য থেকে আসছে, তা দেখবে না।’

বলিউডের সঙ্গে দক্ষিণের সিনেমা বিষয়ক এ বিতর্ক মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যেই হচ্ছিল। তবে কিচ্চা সুদীপের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অজয় দেবগনের সঙ্গে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়। বিরূপ মন্তব্য আরো যে আসেনি, এমন নয়। অন্যদিকে অভিনেতা বা পরিচালকরা না চাইলেও তুলনা তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন একটি কথা, প্যান ইন্ডিয়ান সিনেমা। আঞ্চলিক সিনেমা বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং করে মুক্তি দেয়া ও ভারতব্যাপী পরিবেশনের ক্ষেত্রে কথাটি ব্যবহার করা হয়। এ সম্পর্কে দুলকার সালমান বলেছিলেন, ‘‌আমি প্যান ইন্ডিয়া কথাটি খুব একটা পছন্দ করি না। সিনেমা মানে আমার কাছে কেবল ভারতীয় সিনেমা।’ নতুনদের পাশাপাশি সিনেমার কিংবদন্তির দিকে তাকালে দেখা যাবে, তারাও একই বিশ্বাস ধারণ করেন। কমল হাসান বলেছেন, ‘‌আমরা সবসময় এমন সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করব, যা সবাই পছন্দ করবে। কোনটা প্যান ইন্ডিয়ান সিনেমা আর কোনটা বৈশ্বিক, তা সিনেমার গুণ দিয়েই নির্ধারিত হবে।’ 

দুই দশক ধরে দক্ষিণ ভারত ও বলিউডে সমানতালে কাজ করেছেন আর মাধবন। তিনিও মনে করেন সিনেমা ভালো হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণের কোনো কোনো অভিনেতা ও তারকা অবশ্য মনে করেন বলিউডে সত্যিই খারাপ অবস্থা চলছে। ঋষভ শেঠি এদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, ‘‌আমরা সিনেমা নির্মাণ করি দর্শকের জন্য, নিজেদের জন্য নয়। তারা কী চাইছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হলিউডের থেকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত সিনেমা নির্মিত হয়। এর তো প্রয়োজন নেই। দর্শক হলিউড থেকেই সিনেমাগুলো পাচ্ছে।’ ঋষভের এ কথা বিভিন্নভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়। সম্প্রতি তার পরিচালিত ও অভিনীত কানতারা সফলতা লাভ করেছে। ঋষভ তাই আত্মবিশ্বাস থেকেই এ কথা বলতে পারছেন।