নাটক কিংবা সিনেমা অথবা হাল আমলের ওটিটি প্লাটফর্ম সব মাধ্যমেই সাবলীল অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘‌ওরা ৭ জন’-এ একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছেন তিনি। সিনেমা ও অভিনয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বর্ষণ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

ওরা ৭ জনে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমার অন্য যেকোনো সিনেমার চেয়ে ওরা ৭ জনের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। কারণ এটা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা। বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গৌরবের একটা সময় ১৯৭১। সে সময়কে পরিচালক খিজির হায়াত খান সততা ও পরিশ্রম দিয়ে পর্দায় আনার চেষ্টা করেছেন, সেই কাজটা করার অভিজ্ঞতা অন্য সিনেমার সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। এটা একেবারেই ভিন্ন। সে জায়গা থেকে এ সিনেমায় কাজ করার প্রতিটা মুহূর্ত আমার কাছে খুবই গুরুত্বপুর্ণ ছিল। 

সিনেমাটিতে সোলায়মান কাজীর চরিত্রটির গুরুত্ব সম্পর্কে শুনতে চাই?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল একটা অন্যতম ভিত্তি, তার একটা প্রতীকী চরিত্র ওরা ৭ জনের সোলায়মান কাজী। 

এ সময়ে এসে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে কী মনে হয়েছে?

অভিনয় করতে গিয়ে আমাদের বারবার মনে হচ্ছিল, কত কঠিন ছিল এ যুদ্ধের সময়টা। ১৯৭১ সাল কত ভয়াবহ, দুর্বিষহ ছিল। এটা ভাবতে গিয়ে গা শিউরে উঠত। যেকোনো সময় গুলি আসতে পারে, যেকোনো সময় হানাদার বাহিনীরা হানা দিতে পারে। তা সত্ত্বেও জানের মায়া না করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সামান্য অস্ত্র দিয়ে যেভাবে লড়ে গেছেন, দেশটাকে স্বাধীন করেছেন; এটা একটা জনগোষ্ঠীর গভীর দেশপ্রেম ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়। অভিনয় করতে গিয়ে ওই সময়টা আমরা প্রত্যেকেই অনুভব করতাম। 

আমাদের দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ভিত মজবুত করতে কী করা উচিত বলে আপনার মনে হয়? 

প্রথমত আমাদের ইন্ডাস্ট্রি মজবুত করার জন্য বেশি করে ভালো সিনেমা বানানো উচিত। যে সিনেমা খুব সহজেই দর্শকদের সংযুক্ত করতে পারে। একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমা যখন দর্শকের সঙ্গে কানেক্ট হয়ে যাবে এবং তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তখন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আবার আগের মতো ঘুরে দাঁড়াবে। এটা আমার বিশ্বাস। অনেকেই বলছেন, হিন্দি সিনেমা আসলেই হল মালিকরা স্বস্তি পাবেন। হ্যাঁ হয়তো, এতে হল মালিকরা লাভবান হবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আমাদের সিনেমাকে গুরুত্ব না দিয়ে বাইরের সিনেমা আনা কতটা যৌক্তিক, এটা বিবেচনা করতে হবে। আমাদের নিজেদের সিনেমাকেও তো আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।

সামনে আর কোন কাজ আসতে যাচ্ছে?

অতি সম্প্রতি আমি ‘‌যাপিত জীবন’ সিনেমার কাজ শেষ করেছি। এটা হাবিবুল ইসলাম হাবিব পরিচালিত। এ সিনেমায় আমার বিপরীতে আছে আশনা হাবিব ভাবনা। যাপিত জীবন একটা সরকারি অনুদানের সিনেমা। 

‘‌অপলাপ’ নামের একটা ওয়েব ফিল্ম শেষ করেছি। এর পরিচালক মোহাম্মদ আলী মুন্না। আমার বিপরীতে আছেন নিপুণ আক্তার। আরো রয়েছেন জিয়াউল রোশান। আর কিছু কাজ করেছি, সেগুলোয় পোস্ট প্রডাকশনের কাজ চলছে।

কাইজারের ব্যারিস্টার কবে ফিরছে? 

ব্যারিস্টার কবে ফিরবে, এটা আমি জানি না। নির্মাতা ভালো বলতে পারবেন। এ প্রশ্ন আমাকে প্রতিদিনই শুনতে হচ্ছে। 

এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে?

এ মুহূর্তে আমাদের শুধু ওরা ৭ জনের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ততা। সিনেমার মুক্তিযোদ্ধা ৭ জনের কেউ এখন অন্য কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি না। সিনেমাটি মুক্তির পরই আমরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে যাব।