স্বীকার করতেই হবে সিদ্ধান্ত নেয়াটা যথেষ্ট কঠিন ছিল। তার পরও শেষ পর্যন্ত অনড় থাকলেন গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হলিউড অভিনেতা ইদ্রিস এলবা। আপাতত হলিউড না, আগামী এক দশক তিনি কাজ করবেন আফ্রিকার চলচ্চিত্র এগিয়ে নেয়ায়। বিশেষভাবে কাজ করবেন ঘানা ও তানজানিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে। যেহেতু লন্ডনে বসে থেকে কাজটি করা সম্ভব না। ফলে দ্রুতই তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য পা রাখছেন আফ্রিকার মাটিতে। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইদ্রিস এলবা বলেছেন, ‘এখানকার চলচ্চিত্রকে আমি এগিয়ে নিতে চাই। সেটা প্রায় ১০ বছরের প্রক্রিয়া। বিদেশের মাটিতে থেকে সেটা করা সম্ভব না। এজন্য আমাকে এখানে থাকতে হবে। এ মহাদেশে থাকতে হবে।’

আগামী ৫-১০ বছর ইদ্রিস এলবা আফ্রিকা ঘুরবেন। কাজ করবেন স্থানীয় চলচ্চিত্রের গতিপথ নির্ধারণে। সেটা ঘানার আক্রা, সিয়েরা লিয়নের ফ্রিটাউন কিংবা তানজানিয়ার জাঞ্জিবার হতে পারে। এলবার বাবা ছিলেন সিয়েরা লিয়নের ও মা ঘানার। ফলে তিনি আফ্রিকার গল্প বলতে চান পৃথিবীর সামনে। এদিকে তানজানিয়ার কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগেই ২০০ একর ভূমি বরাদ্দ দিয়েছে এলবার জন্য। তার নেতৃত্বেই সেখানে ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টুডিওজ নামে ফিল্ম স্টুডিও তৈরি হবে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এলবা ঘানার সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিন-চার বছর ধরে তিনি আফ্রিকায় কাজ করা নিয়ে একটা পরিকল্পনা দাঁড় করানোর চেষ্টায় ছিলেন। আফ্রিকাকে তিনি চলচ্চিত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। ২০২২ সালে ইউনেস্কোর প্রকাশিত তথ্যানুসারে, কেবল নাইজেরিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিই বছরে প্রায় আড়াই হাজার সিনেমা তৈরি করে। আয় করে লাখো কোটি ডলার।

ইদ্রিস এলবা বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্প হচ্ছে সফট পাওয়ার। কেবল ঘানার না, সমগ্র আফ্রিকার জন্য। আফ্রিকান চলচ্চিত্র নির্মাতারা চাইলে পশ্চিমা মিডিয়া প্রচারিত ঔপনিবেশিক বয়ানকে ভেঙে দিতে পারে নিজেদের ‍সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে। বিদেশে মিডিয়ার দিকে তাকালে দেখা যাবে কীভাবে আফ্রিকার মানুষ দাস হয়েছে, কীভাবে ঔপনিবেশিত হয়েছে; দেখা যাবে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত বিবর্ণ আফ্রিকাকে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান