দীর্ঘ কর্মজীবনে লতা মঙ্গেশকর অনেক স্মরণীয় গান উপহার দিয়েছেন। এসব গানের অনেকগুলো হাল আমলে রিমিক্স করা হয়েছে। লতা মঙ্গেশকর অবশ্য বরাবরই রিমিক্স সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছিলেন।

নতুন করে গান রিমিক্স বা সংস্করণ করার আগে রেকর্ডিং সংস্থাগুলোর আরো ভাবা উচিত, বিশেষত কোনো ক্ল্যাসিক গানের কথা ও সংগীতায়োজন বদলে দিয়ে রিমিক্স করার বিষয়টি। এ নিয়ে লতা লেখেন, নীতিগতভাবে এখানে কোনো ভুল নেই, যতক্ষণ না কোনো গানের মূল বজায় রেখে তা করা হচ্ছে। কিন্তু ‘গানের ভাবটি বদলে দিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করলে সেটি সঠিক কাজ নয়।’

তিনি লেখেন, ‘আমি শুনেছি যে এখন কী করা হচ্ছে। গানের কৃতিত্ব অন্য কাউকে দেয়া হচ্ছে। অনেক সময় গানের সুরের পরিবর্তন করা হচ্ছে। গানের কথা বদল করে সস্তা ভাব যুক্ত করা হচ্ছে। এটা আমার কাছে অযৌক্তিক কাজ মনে হয় এবং এগুলো আমাকে খুব কষ্ট দেয়।’

একটি ক্ল্যাসিক গান তৈরি ও উপস্থাপনের পেছনে সুরকার, গায়ক, গীতিকার, এবং পরিচালকদের কঠোর পরিশ্রমের কথাও উল্লেখ করেন লতা। তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি গান খুব ভালোবাসা দিয়ে তৈরি করা হয়। একটি গানকে সুন্দর ও অর্থবহ করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকে সবার। সংগীতকে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে সম্মান করা উচিত। গানের শুদ্ধতা বজায় রাখা রেকর্ডিং সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে, তবে দুঃখজনক তারা এটা ভুলে গেছে।’

১৯৭৩ সালের সিনেমা দাগ এর জনপ্রিয় গান ছিল নি ম্যায় ইয়ার মানানা নি। গানটি গেয়ে সে সময়ে প্রশংসা পেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। গানটি যখন রিমিক্স করা হয়, সে সময়ে ভারতীয় এক গণমাধ্যমে সাক্ষাত্কারে লতা বলেছিলেন, ‘নীতিগতভাবে আমি সবসময়ই ক্ল্যাসিকের রিমিক্স ও কভার সংস্করণের বিরোধিতা করে আসছি।’

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে