ভারতের কিংবদন্তি শিল্পীদের নাম করলে মোহাম্মদ রফি ও লতা মঙ্গেশকরের নাম পাশাপাশি চলে আসে। প্লেব্যাকে তাদের গাওয়া বহু ডুয়েট আজও জনপ্রিয়। ১৯৪৯ সালে শ্যামসুন্দরের সংগীত আয়োজনে বাজার সিনেমায় তারা প্রথম ডুয়েট গেয়েছিলেন। এরপর রফি-লতা জুটি ‘সুন মেরে সাজনা’ (আঁসু, ১৯৫৩), ‘ভুলা নেহি দেনা’ (বারাদরী, ১৯৫৫), ‘ভিগি পালকে (দো গুন্ডে, ১৯৫৮) গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৫২ সালে বৈজু বাওরা সিনেমার ‘তু গঙ্গা কী মওজ’ আজও জনপ্রিয়। কিন্তু ষাটের দশকে তাদের মধ্যে বেশ দূরত্ব তৈরি হয়। রফি সাহেবের কথায় লতা মঙ্গেশকর এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে তার সঙ্গে গান করাই তিনি বন্ধ করে দেন।
দুজনের মতদ্বৈততার প্রসঙ্গটি ছিল রয়্যালটি নিয়ে। প্লেব্যাক শিল্পীদের সিনেমার প্রযোজকরা এককালীন টাকা দিতেন। কিন্তু গানগুলো পরে ক্যাসেট ও অন্যান্য মাধ্যমে ব্যবহার করা হতো। তাই লতা মঙ্গেশকর রয়্যালটি দাবি করেন এবং তিনি আশা করেছিলেন, মোহাম্মদ রফি তাকে সমর্থন করবেন। কিন্তু রফি সমর্থন তো করলেনই না বরং বললেন, ‘একজন গায়ক তার গানের জন্য যে অর্থ দাবি করেন প্রযোজক তা দিয়ে থাকেন। তাই পরবর্তী সময়ে রয়্যালটি প্রদানের প্রশ্নই আসে না।’ রফির এ কথার কারণে লতা ক্ষুব্ধ হন এবং তার সঙ্গে দ্বৈত গান গাওয়া বন্ধ করে দেন।
প্রায় তিন বছর রফির সঙ্গে লতা কোনো দ্বৈত গান গাইতে রাজি হননি। এ সময় লতা মহেন্দ্র কাপুরের সঙ্গে এবং রফি সুমন কল্যাণের সঙ্গে ডুয়েট করেন। মোহাম্মদ রফিকে নিয়ে তার পুত্রবধূ ইয়াসমিন খালিদ রফির স্মৃতিচারণ মোহাম্মদ রফি: মাই আব্বা—আ মেমোয়ার বইয়ে এ ঘটনার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই শিল্পীর বিরোধে এ সময়ে তাদের শ্রোতা ও গুণগ্রাহীরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ফলে সংগীত পরিচালক জয়কিশান নিজ উদ্যোগে দুই শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে সংকট দূর করেন। এরপর লতা ও রফি ১৯৭৭ সালে পালকো কি ছায়ো মে সিনেমায় পুনরায় একত্রে কাজ করেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া










