মুক্তিযুদ্ধ, সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের মহিমাগাথা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘বীরাঙ্গনা ৭১’ সিনেমাটি। শহিদুল ইসলাম শহিদের গল্পে, এম সাখাওয়াত হোসেনের সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এ সিনেমা দেশের ১৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে আজ। ‘বীরাঙ্গনা ৭১’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শিরিন শিলা।

এ নিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘এটা আমার পরম সৌভাগ্য, একজন বীরাঙ্গনার ভূমিকায় আমি অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। এর কাজ শুরু হয়েছিল বছরের শুরুর দিকে। বেশ ভালোভাবেই কাজটি নির্মাতা এম সাখাওয়াত হোসেন ভাই শেষ করেছেন। এরপর ডাবিং, সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং শেষে সিনেমাটি সেন্সরের জন্য জমা দেয়া হয়। এটি আনকাট সেন্সর লাভ করেছিল। বেশ কয়েক মাস অপেক্ষার পর অবশেষে চলতি বছরের শেষ প্রান্তে আজ মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। এ বছর এটাই আমার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ও শেষ সিনেমা। বীরাঙ্গনা চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাবু আঙ্কেল। তার সঙ্গে এই প্রথমবার অভিনয় করলাম। তিনি আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। বছরের শেষ প্রান্তে এসে এখন সিনেমার প্রচারণায় সময় কাটছে। হলে গিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ রইল।’ 

বীরাঙ্গনা ৭১ সিনেমা মুক্তি উপলক্ষে বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে সিনেমাটির নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা ছাড়াও ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াত ও মুশফিকুর রহমান গুলজার। সিনেমাটি নিয়ে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘একাত্তরের উত্তাল সময়ে এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জয়বুন নামের এক নারীর বীরত্বের গল্প বীরাঙ্গনা ৭১। দেশের জন্য তার ত্যাগ, বীরত্ব এ গল্পকে করেছে আরো স্পর্শকাতর। পাকিস্তানি ক্যাম্পে নারীর প্রতি পাক হানাদারদের চরম অসম্মানের রোমহর্ষক চিত্র সিনেমায় ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আজকের প্রজন্মের সম্মান ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধশিশুকে বরণ করে নেয়ার এক আবেগী উপাখ্যান।’

নির্মাতা কাজী হায়াত বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অনেক শিশু জানেই না মুক্তিযুদ্ধ কী আর কী ঘটেছিল সে সময়। এ ধরনের চলচ্চিত্রই পারে ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে।’

সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহেদ শরীফ খান, ফজলুর রহমান বাবু, ঝুনা চৌধুরী, খলিলুর রহমান কাদেরীসহ আরো অনেকে।