হলিউডে এখনো চলছে চিত্রনাট্যকারদের ধর্মঘট। নানা দাবি নিয়ে চলা এ ধর্মঘট থামার নামই নিচ্ছে না। এর মধ্যে ধর্মঘটকারীরা স্টুডিওর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। দিন যত যাচ্ছে জটিলতা যেন আরো বাড়ছে। এখন ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছেন প্রথম সারির অভিনেতারাও। সরাসরি যারা যোগ দেননি, তারাও নিজেদের সিনেমার প্রচারণায় না থাকার মাধ্যমে একে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রথম সারির প্রায় সব অভিনেতাই। ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিলেন ড্যানিয়েল র্যাডক্লিফ। সম্প্রতি বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়ে পথে নেমেছেন ব্রেকিং ব্যাডের কলাকুশলীরা। জনপ্রিয় এ সিরিজের অভিনেতারা এর আশু সমাধান কামনা করেছেন।
ধর্মঘটের কারণে বহু সিনেমা পিছিয়েছে। বড় সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে মার্ভেলের ডেডপুল থ্রি, প্যারামাউন্টের মিশন: ইম্পসিবল—ডেড রেকনিং পার্ট টু ও গ্ল্যাডিয়েটর টু, ওয়ার্নার ব্রোসের বিটলজুস টু, মর্টাল কমব্যাট টু ও ডুন: পার্ট টু এবং ইউনিভার্সালের উইকেড। সিনেমার নামের সঙ্গে স্টুডিও বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করার কারণ হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই বড় মাপের এবং ধর্মঘট সমাধানে তাদের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ কথা নানা তরফ থেকে বলা হলেও বিষয়টির সুরাহা হচ্ছে না। এ সিনেমাগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটির শুটিং বিঘ্নিত হয়েছে, কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে পোস্ট প্রডাকশনে।
এখানেই শেষ নয়। এখন কেবল সিনেমার যুগ নয়, আছে বড় বাজেটের এক একটি সিরিজও। সেদিক থেকে নির্মাণ বিঘ্নিত হয়েছে নেটফ্লিক্সের স্ট্রেঞ্জার থিংসের মতো জনপ্রিয় সিরিজের। ধর্মঘট শুরুর সময়ই জানানো হয়েছিল সিরিজটি পেছাবে। ওটিটির জনপ্রিয়তম সিরিজের একটি হলো স্ট্রেঞ্জার থিংস। এছাড়া পিছিয়েছে নেটফ্লিক্সের বিগ মাউথ, কোবরা কাই ও এমিলি ইন প্যারিস। অন্যান্য প্লাটফর্মের সিরিজেরও একই অবস্থা। তালিকায় আছে প্যারামাউন্ট প্লাসের ১৯২৩, ফক্সের আমেরিকান ড্যাড, ম্যাক্সের পেঙ্গুইন, অ্যাপল টিভি প্লাসের মেট্রোপলিসসহ আরো অনেক সিরিজ। দর্শক অনেকদিন ধরেই অপেক্ষায় আছে এ সিরিজগুলোর।
এমনকি প্রভাব পড়েছে টেলিভিশন শোগুলোয়ও। এর মধ্যে আছে এবিসির জিমি কিমেল শো, এইচবিওর লাস্ট উইক টুনাইট উইথ জন অলিভারসহ এনবিসির অন্তত তিনটি শো। টিভি শোগুলোর আলাদা দর্শক রয়েছে। এ অবস্থায় সিনেমা, সিরিজ ও টেলিভিশন শো থমকে যাওয়ায় বিপাকে সবাই। তাই ধর্মঘট দ্রুত শেষ করার প্রতি জোর দিচ্ছেন সবাই।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










