সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে হলিউডে রীতিমতো টানাপড়েন চলছে। দর্শক পছন্দ করছেন না এ জনরা। আবার সুপারহিরো সিনেমাকে এড়িয়েও যেতে পারছে না ইন্ডাস্ট্রি। দুই-আড়াই বছর ধরে এ অবস্থা চলছে। মার্ভেলের সিনেমা বহুদিন রাজত্ব করলেও এখন মার্ভেলও পিছিয়ে আছে। আর ডিসির সিনেমা তো অনেক সময় নির্মাণ খরচই তুলতে পারছে না। সুপারহিরো সিনেমায় পুনরাবৃত্তি থাকার বিষয়টিকে এক্ষেত্রে অনেকে সামনে আনেন। কিন্তু এ জনরাকে একেবারে ফেলে দিতে নারাজ অভিনেতা টম হ্যাংকস। তার মতে, এ ধারার সিনেমা বহুদিন ধরে দর্শককে আমোদিত করেছে। দর্শকই এ জনরা সাদরে গ্রহণ করেছেন।

সম্প্রতি হ্যাপি স্যাড কনফিউজড পডকাস্টে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেছেন। টম জানান, তিনি কখনো কেভিন ফাইগি বা জেমস গানের সঙ্গে বৈঠক করেননি। এ কথার মানে হলো, সুপারহিরো সিনেমা করার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। কিন্তু তাই বলে এ ধারার সিনেমা নিয়ে আপত্তিও নেই টমের। তবে তিনি দর্শক রুচির পরিবর্তনটি লক্ষ করেছেন খুব কাছ থেকে।

সুপারহিরো সিনেমার ইতিহাস ধরে টম বলেন, ‘মনে আছে সত্তর ও আশির দশকে ক্যাপ্টেন আমেরিকা ও স্পাইডার-ম্যান-এর টেলিভিশন ভার্সন আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি অ্যাডাম ওয়েস্ট চেষ্টা করেছিলেন ব্যাটম্যান নিয়েও। কিন্তু প্রযুক্তি তখন এত উন্নত ছিল না। তাই এসব সম্ভব হয়নি।’

এ সময় সুপারহিরো সিনেমা ভিজুয়াল ইফেক্ট দিয়েই নির্মিত হয়। টম বলেন, ‘এখন চাহিদা অনুসারে যেকোনো কিছু করা যায়। সত্যি বলতে ক্রিস্টোফার রিভের ‘‘সুপারম্যান’’ এ সম্ভাবনা প্রথম দেখিয়েছিল। সে সময় কাটিং এজ টেকনোলজি এসেছিল। এ দিয়ে ঝোলানো তারগুলো মুছে ফেলা সম্ভব ছিল। আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে সুপারম্যান সত্যিই উড়তে পারে।’

কিন্তু এ সময় এসে দর্শক আর এসব মানতে চায় না। তারা সুপারহিরো সিনেমায় গল্প চায়। এ নিয়ে টম বলেন, ‘আমরা এখন আবার জানতে চাইছি গল্পটা কোথায়? কিন্তু বিষয়টা তো সবসময় এমন ছিল না। প্রতিটা চরিত্র কখনো না কখনো আমাদের প্রভাবিত করেছে। আমি নিজে “এক্স-মেন” সিরিজের চরিত্র হতে চাইতাম।’

টমের মতে সুপারহিরোরা মানুষেরই একটা উন্নততর সংস্করণ। আর বহুদিন ধরে মানুষ নিজে উন্নত হতে চেয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে এ চরিত্রগুলো দর্শককে প্রভাবিত করেছে। তিনি নিজেও প্রভাবিত হয়েছেন। টম বলেন, ‘আমার মনে হতো আমি স্পাইডার-ম্যানের মতো দ্বিধায় ভুগছি, ব্যাটম্যানের মতো ক্রোধ হতো। আবার ক্যাপ্টেন আমেরিকার মতোই আমি দেশকে ভালোবাসি। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এ চরিত্রগুলো সিনেমার পর্দা থেকে আমাদের প্রভাবিত করেছে।

কিন্তু এখন দর্শক অনেক পরিণত। তাই তারা গল্প খুঁজতে চায়।’

সূত্র: ভ্যারাইটি