শনিবার জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হয়েছে রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। এর ‘ইন কনভারসেশন’
অংশে আলাপ করেছেন তিউনিসিয়ার অভিনেত্রী হেন্দ সাবরি ও সৌদি অভিনেতা বারা এলাম। দর্শক সারিতে ছিলেন অনেক সৌদি নাগরিক। হেন্দ সাবরি তার ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন ও আরব দুনিয়ার চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে কথা বলেন। উৎসবে ফিচার ফিল্ম বিভাগের জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবরি। জুরি বোর্ডের প্রধান ছিলেন ইতালীয় পরিচালক জিওসেপ টোরান্টোরে।
অনুষ্ঠানে সৌদি চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ নিয়ে কথা বলেন হেন্দ সাবরি। তিনি বলেন, সৌদি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে যে পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে, সেটা আমি অনুভব করতে পারছি। একই সঙ্গে বুঝতে পারছি এখানে চলচ্চিত্রের গ্ল্যামারও আসতে চলেছে।
সাবরি বলেন, আমি এতই চমকিত ও মুগ্ধ যে যা দেখছি তা বিশ্বাস করতে পারছি না। সিনেমা সম্পর্কে সৌদি যুবকদের জ্ঞানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের সৃজনশীল শক্তি বিকশিত হচ্ছে।
এছাড়া সৌদি নারীদের শক্তিশালী অবস্থানের প্রশংসা করেন সাবরি; সঙ্গে যোগ করে বলেন, ‘জেদ্দায় আমি যে ভালোবাসা পেয়েছি তা অতুলনীয়।’
এ সময় অনুষ্ঠানের উৎসাহিত দর্শকরা বলে ওঠেন, ‘আমরা আপনাকে ভালোবাসি।’
নিজের নারীবাদী ভাবনা ও কাজ দিয়ে আরব নারীদের অনুপ্রাণিত করেছেন সাবরি। এজন্য তাকে আরব দুনিয়ায় অনেকে প্রশংসা করেন।
কথোপকথনের সময় ১৯৯৪ সালে সাবরির প্রথম ছবি দ্য সাইলেন্স অব দ্য প্যালেস ক্যামেরার পেছনের একটি দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়। ছবিতে দেখা যায় তিনি তিউনিসিয়ার পরিচালক মৌফিদা তালতলির সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সিনেমাটিকে বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি বলে অভিহিত করেন সাবরি। ছবিটি তাকে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তিউনিসিয়ার বিপ্লবের পর সাবরি অনুভব করেন তাকে চলচ্চিত্রের নিউ ওয়েভের পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ২০১৯ সালের নৌরাস
ড্রিম।
সৌদি দর্শকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অভিনয় শিল্পীদের কেবল একটি নির্দিষ্ট ধরনের সিনেমার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়, শুধু বাণিজ্যিক কিংবা বড় বাজেটের স্বাধীন চলচ্চিত্রই করব এমনটা হওয়া উচিত নয়। নিজেকে কেবল বড় সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাটা বড় ধরনের ক্ষতি। সব বিকল্পই কাজে লাগানো উচিত।
সাবরি ২৮টি চলচ্চিত্র এবং বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে আটটি আরব ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার জিতেছেন। ২০০৮ সালে জেনেট আল আসমাক চলচ্চিত্রে তার ভূমিকার জন্য আরব ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন সাবরি। ২০১২ সালে আসমা ছবিতে তার ভূমিকার জন্য মুরেক্স ডি’ওরে সেরা আরব অভিনেত্রী হন।
সূত্র: আরব নিউজ










