ফরিদা ফারহানা একজন গীতিকবি। গীতিকবিতার মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রে যেখানে নারীদের সংখ্যা একেবারেই কম, সেখানে একজন প্রতিশ্রুতিশীল গীতিকবি হিসেবে ধারাবাহিকভাবে কাজের মাধ্যমে সময়ের তালে এগিয়ে চলেছেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুরুর দিকটা খুব সহজ ছিল না। টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের পাহাড়ি এলাকা থেকে আজকের অবস্থানে আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে স্কুলজীবন থেকেই ছড়া-কবিতাসহ বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে আগ্রহী হয়ে ওঠি এবং লেখালেখি শুরু করি। সেই সঙ্গে রেডিওতে গুণী গীতিকবিদের প্রচুর গান শোনার সুবাধে ২০০২ সাল থেকে শখের বশেই গান লেখা শুরু করি। সে শখের কাজটি এক সময় নেশায় পরিণত হয় এবং সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রতিভা ও নিজের চেষ্টায় ২০১০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশ বেতারে গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হই। কিন্তু আমার লেখা গানে শিল্পীদের কণ্ঠ দেয়ার কাজ শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে।’ 

দেশের সংগীত জগতে গীতিকবি হিসেবে নারীদের সংখ্যা কম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নারীরা যে কম লিখছে, তার দায় কিন্তু শুধু নারীদের নয়। এর সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অনেক কারণও জড়িত থাকে। এছাড়া নারীরা লেখালেখির জন্য আলাদা করে সময় বের করতে পারেন না। কারণ লেখার জন্য প্রচুর পড়ালেখা করতে হয়। কাব্য, ছন্দ, সুর সম্পর্কে বিস্তর ধারণা থাকতে হয়। তাছাড়া তাদের অনেক ক্ষেত্রে আড়াল করেও রাখা হয়। তবে নারীর মনোবল যদি দৃঢ় হয়, সৃষ্টিশীল কাজে যদি সত্যিকার অর্থেই তার আগ্রহ থাকে, তাহলে নারীকে তার সৃষ্টিশীলতা থেকে কেউ দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না। তাদের যেহেতু জীবনের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন পারিবারিক বলয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাই এখানে পরিবারের ভূমিকা সর্বাগ্রে—সেটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।’

অ্যালবামের জন্য গান লেখা ছাড়াও নাটক ও টিভি অনুষ্ঠানের থিম সং লিখেছেন ফারহানা। বিশেষ করে বাংলাদেশ বেতারের জন্য তিনি নিয়মিত গান লিখে যাচ্ছেন। এছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিজয় নিয়ে বাংলাদেশ বেতারে ছয়জন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে এবং রাজু আহমেদের সুর ও সংগীতে একটি গান প্রচার হয়েছে। গান লেখার পাশাপাশি ফরিদা ফারহানার ১০টি কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে।