সঞ্জয় লীলা বানসালি নির্মাণ করছেন ‘পদ্মাবতী’ (প্রথমে এ নামেই নির্মাণ শুরু হয়েছিল ‘পদ্মাবত’-এর)। মেওয়ারের রাওয়াল রতন সিং, তার স্ত্রী পদ্মাবতী ও আলাউদ্দিন খিলজিকে নিয়ে প্রচলিত গল্প থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করছিলেন তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই গেরুয়া বাহিনীর আপত্তি। সিনেমার গল্প বদলাতে হবে, পোশাকে সমস্যা এবং সর্বশেষ তারা অভিনেত্রীর মাথা নিলামে তুললেন। সুরজ পাল আমু বলেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোনের মাথা এনে দিলে তাকে ১০ কোটি রুপি দেয়া হবে। দীপিকা কোনো কথা বলেননি।
অ্যাসিডদগ্ধ নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। সিনেমার নাম ছাপাক। এ সিনেমা বাস্তব ঘটনা থেকেই নেয়া। সিনেমাটি নির্মাণ ও এর পববর্তী সময় দীপিকার লুক ও সাহস নিয়ে ইতিবাচক কথা হয়েছিল। কিন্তু এরপর নতুন বিপত্তি। মেঘনা গুলজার পরিচালিত এ সিনেমা মুক্তির কাছাকাছি সময়ে জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদের প্রতিবাদে অংশ নেন। অনেকেই একে সিনেমার প্রচারণা বলে ধরে নিয়েছিলেন। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন দীপিকা। কিন্তু তিনি এ সমালোচনার কোনো রূঢ় জবাব দেননি।
নিজের কাজের প্রতিই মনোযোগ ছিল তার। স্পোর্টসম্যানের কন্যা হওয়ার কারণেই হয়তো নিজের মধ্যে একটা স্পোর্টসম্যানশিপ ছিল। তিনি সব সমালোচনা নিয়েছেন আশপাশ থেকে আসা অহেতুক মন্তব্য হিসেবে। সে কারণেই ক্যারিয়ার টালমাটাল হলেও দীপিকা সামলে নিয়েছেন। অনেকেই বলেছিলেন, জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতে দাঁড়ানো ১০ মিনিট দীপিকার ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে। কিন্তু আদতে তা হয়নি।
পদ্মাবতের দুই বছর পর মুক্তি পায় ছাপাক (২০২০)। সিনেমাটি সমালোচনার মুখে পড়েছিল কিছুটা। এর পরের বছর কবির খানের এইটি-থ্রি পুরোই ফ্লপ। ভালো করেনি সার্কাসও। দুটি সিনেমাই রণবীর সিংয়ের সঙ্গে। কিন্তু ২০২৩ সালে এসে দীপিকার ক্যারিয়ার আবার বদলে গেল। বছরের শুরুতে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘পাঠান’ এবং সেপ্টেম্বরে জওয়ানে ক্যামিও। কিন্তু ক্যামিও থেকেই মূল নায়িকার চেয়ে বেশি প্রভাব রাখলেন তিনি।
২০০৭ সালে শাহরুখ খানের সঙ্গে ওম শান্তি ওম দিয়ে অভিষেক। শাহরুখ যেন দীপিকার জন্য লাকি চার্ম। রোহিত শেঠির সার্কাস না জমলেও ২০১৩ সালে জমেছিল চেন্নাই এক্সপ্রেস।
দীপিকার ক্যারিয়ারে ব্যবসাসফল সিনেমার অভাব নেই। অভাব নেই সমালোচকদের পছন্দ করা সিনেমাও। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীতে আছে সঞ্জয় লীলা বানসালির রাম-লীলা, বাজিরাও-মাস্তানি ও পদ্মাবত। সমালোচকরা প্রশংসা করেন পিকু (২০১৫), তামাশা (২০১৫), আরক্ষণ (২০১১)।
১৬ বছরের ক্যারিয়ারে দীপিকার সিনেমার সংখ্যা ৪০-এর কাছাকাছি। কোনোটিতে মূল অভিনেত্রী, কোথাও ক্যামিও। কিন্তু সবখানেই রেখেছেন নিজের ছাপ। কেমন করে সম্ভব হলো তা—এমন প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেছিলেন, তিনি সমালোচনার জবাব না দিয়ে নিজের কাজ করায় বিশ্বাসী। সে কারণেই সম্প্রতি করণ জোহরের শোতে ব্যক্তিজীবন নিয়ে বলা কথার সমালোচনায়ও চুপ ছিলেন দীপিকা। কথা বলেননি পাঠানের গান মুক্তির পর ওঠা সমালোচনায়।
১৯৮৬ সালের ৫ জানুয়ারি প্রকাশ পাড়ুকোণ ও উজ্জ্বলা পাড়ুকোনের ঘরে জন্ম নেয়া দীপিকা নানা বাধা পেরিয়ে এখন বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি তার আছে নিজের ব্র্যান্ড। তার সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি রুপিরও বেশি।










