পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একজন ভিডিও জকি হিসেবে। ২০১১ সালে শোয়েব মনসুর পরিচালিত ‘বোল’ সিনেমার মধ্য দিয়ে আতিফ আসলামের বিপরীতে তার অভিষেক রুপালি পর্দায়। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন ফাওয়াদ খানের বিপরীতে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘ও হামসাফার থা’য় অভিনয় করে। সর্বশেষ তাকে ফাওয়াদের বিপরীতে ‘দ্য লেজেন্ড অব মাওলা জাট’ সিনেমায় দেখা গেছে। তবে মাহিরা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করে। ২০১৭ সালের সিনেমা ‘রইস’-এ অভিনয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরই পাকিস্তানি শিল্পীরা ভারতে নিষিদ্ধ হতে শুরু করেন। এর প্রভাব পড়েছিল তার ওপর। তিনি সম্প্রতি জানালেন, ওই সময় বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগতে শুরু করেন মাহিরা।
২০১৬ সালে উরি হামলার জের ধরে ভারতে বেশকিছু ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ছিল পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতে নিষিদ্ধ করা। ২০১৭ সালে রইস মুক্তি পায়। শাহরুখ খান-নওয়াজউদ্দিন অভিনীত এ সিনেমার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও বক্স অফিসে ততটা ব্যবসা করতে পারেনি। এরপর তো ভারতে সিনেমা করার সম্ভাবনাই শেষ হয়ে যায় মাহিরার। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। মাহিরা বলেন, ‘আমাকে শেষ পর্যন্ত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন আমার ম্যানিক ডিপ্রেশন তৈরি হয়েছে। সত্যি বলতে ছয়-সাত বছর আগের কথা এসব। আমাকে অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট নিতে হতো। মাঝে মাঝে ছেড়ে দিতাম, কিন্তু তাতে আরো ক্ষতি হতো।’
মাহিরা জানান, তিনি একজন আশাবাদী মানুষ। কিন্তু একটা সময় ভেঙে পড়েছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো বা প্রার্থনায়ও খুব একটা কাজ হয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটা মানুষের জীবনেই সফলতা ও ব্যর্থতা থাকে। কিন্তু ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন এসবের বাইরে।’ মাহিরা জানান, এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ব্যক্তি নিজেকে নিয়ে অসহায় বোধ করে। মাহিরা নিজের অবস্থার কথাই বলেছেন পডকাস্টে। এ অভিনেত্রী বলেন, ‘গত বছর ওষুধ ছেড়ে দেয়ার পর আমার মানসিক অবস্থা আরো ভেঙে পড়েছিল। আমি সারা দিন বিছানায় পড়ে থাকতাম। উঠে বাথরুমে যাওয়ার মতো শক্তিও আমার ছিল না। সবকিছু অন্ধকার মনে হতো। এরপর আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলাম। আর সেটা তখনই এল, যখন আমি আবার ওষুধ নিতে শুরু করলাম।’
পেশাগত ও অন্যান্য কারণে এতদিন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চুপ ছিলেন মাহিরা। তিনি বলেন, ‘সবকিছু আমার ভেতরেই ছিল। চেপে রেখেছিলাম। এসব নিয়েই আমি কাজ করে গেছি। মনের ভেতর ভেঙে পড়ছিলাম, কিন্তু সে অবস্থায়ই নাচতে হয়েছে আমাকে।’
এখন অবশ্য ধীরে ধীরে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছেন মাহিরা। এজন্য তিনি নিয়মিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










