নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান জানিয়েছেন, তার নতুন সিনেমা ‘ওপেনহেইমার’-এ তিনি কোনো ধরনের সিজিআই (কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি) অ্যাফেক্ট ছাড়াই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্ফোরণের দৃশ্য তৈরি করেছেন। সম্প্রতি টোটাল ফিল্ম ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। 

নোলান বলেন, ‘‌আমি মনে করি, কম্পিউটার গ্রাফিকসের ব্যবহার ব্যতীত ট্রিনিটি টেস্টের (নিউ মেক্সিকোয় প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণ) দৃশ্য ধারণ করাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।’

ওপেনহেইমারকে একটি বড় পরিধি ও মাপের গল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে নির্মাতা বলেন, ‘‌কর্মপরিধির দিক থেকে দেখতে গেলে আমার নেয়া সবচেয়ে দুঃসাহসী প্রজেক্টগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ওপেনহেইমারের গল্পের ব্যাপকতাকে ফুটিয়ে তোলার দিক থেকেও এটি বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদের সামনে বড় ধরনের আইনি বাধা ছিল, প্রায়োগিক অনেক সমস্যা ছিল, কিন্তু আমার একটি অসাধারণ দল ছিল, আর তারা আসলেই ভালো কাজ দেখিয়েছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে আমাদের আরো কিছু সময় লাগবে। তবে নিশ্চিতভাবেই এর ফলাফল আমি দেখতে পাচ্ছি এবং আমার টিম কী অর্জন করতে যাচ্ছে, তা ভেবে আমি রোমাঞ্চ অনুভব করছি।’

ওপেনহেইমার সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইরিশ অভিনেতা সিলিয়ান মারফি। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউএস অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সভাপতি লেভিস স্ট্রসের ভূমিকায় রবার্ট ডাউনি জুনিয়রকে দেখা যাবে। তিনি এখানে প্রতিনায়ক রূপে আবির্ভূত হবেন।

নায়ক ও প্রতিনায়ক ছাড়াও তারকাবহুল এ সিনেমায় ম্যাট ডেমন, ফ্লোরেন্স পাফ, রামি মালেক, বেনি সাফদি, ডেনি ডিহান, জ্যাক কোয়েডসহ অনেক তারকাকে দেখা যাবে। 

পুলিৎজারজয়ী বই আমেরিকান প্রমিথিউস: দ্য ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি অব জে. রবার্ট জুনিয়রের ভিত্তিতে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্রের জনক আমেরিকার তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানী ওপেনহেইমারের জীবনের নানা উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে আমেরিকান লেখক কাই বার্ড ও প্রয়াত মার্টিন জে শেরভিন যৌথভাবে বইটি রচনা করেন। এটি ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। আগামী বছর ২১ জুলাই মুক্তি পাবে ওপেনহেইমার।


সূত্র: ভ্যারাইটি