‘আপনি কুরসি কি পেটি বাঁধ লো।’ এসআরকে যখন এ সংলাপ বলেছিলেন, তখন কে বুঝতে পেরেছিল, পাঠান মুক্তি পাওয়ার পর পৃথিবীতে যে সুনামি হবে, তিনি সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। একইভাবে সিনেমার শুরুতে যখন তিনি গর্জন করেন, ‘জিন্দা হু’। আমার মনে হয়, এ কথায় তার বাস্তবজীবনের প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমানে যখন ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে হাসি, আশা, ইতিবাচকতা ও প্রত্যয় দেখি, আমি বুঝতে পারি হিন্দি সিনেমার ব্যবসা অনেক বেশি জীবন্ত এবং ফুলেফেঁপে উঠেছে। হ্যাঁ, এসআরকে জিন্দা হ্যায়, ওআইআরএফ জিন্দা হ্যায়, হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি জিন্দা হ্যায়। পাঠানের পর শোকপ্রকাশ বন্ধ হয়েছে। ২০২২ সালে ব্যবসায় বিপর্যয় ঘটার পর গণমাধ্যমের একটি অংশ ওআইআরএফ এবং হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শেষ দেখে ফেলেছিল। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং প্রকাশনাগুলোয় নিয়মিতভাবে সাউথ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জয়জয়কারের সংবাদ প্রকাশ হচ্ছিল। পাঠান অসুস্থ হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে আইসিইউ থেকে বের করেছে।
সাধারণ দর্শকের অনুমান ও ধারণা পরিবর্তনের জন্য একটি শুক্রবারই যথেষ্ট। কাজটি পাঠান করেছে এক বুধবারে। আর বক্স অফিসে প্রথমদিন কিংবা পাঁচদিন অথবা নয়দিনেই উদযাপন থেমে যায়নি।
ভারত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাঠান নিত্যনতুন রেকর্ড তৈরি করছে। প্রকৃত অর্থে পাঠানের ব্যবসা সবার চোখ খুলে দিয়েছে। একটি নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। এখন থেকে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি বড় কাজকে পাঠানের সঙ্গে তুলনা করা হবে। অবশ্য কেউ আশা করে না, প্রতিটি সিনেমাই এক বা দুইদিনে যথাক্রমে ৫৭ কোটি অথবা ৭০ কোটি রুপির ব্যবসা করবে। কিন্তু পাঠান দেখিয়ে দিয়েছে, এসব সংখ্যা অর্জন করা অসম্ভব কিছু নয়।
এরই মধ্যে পাঠান বলিউডের সর্বকালের সেরা ব্যবসাসফল সিনেমা ওয়ারকে পেছনে ফেলেছে। কাকতালীয়ভাবে, সেটিও পাঠানের নির্মাতা সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালনা করেছিলেন। এর আগে ভারতে যশরাজ ফিল্মসের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা টাইগার জিন্দা হ্যায়কেও টপকে গেছে পাঠান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওআইআরএফের স্পাই ইউনিভার্সের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা পাঠান। বর্তমানে সিংহাসন পাঠানের দখলে।
সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরকে একটি দুর্দান্ত মন্তব্য করেছেন, মাত্র চারদিনে তিনি তার জীবনের গত চার বছর ভুলে গেছেন। গত নয়দিনে তিনি হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন।
গত বছর অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি তাদের সিনেমার জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্মকে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ডিজিটাল প্লাটফর্ম থেকে আকর্ষণীয় প্রস্তাব আসা সত্ত্বেও ওআইআরএফ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছে। আদিত্য চোপড়া তার সিনেমাগুলো থিয়েটারে মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে অনড়। বক্স অফিসে তার বিগত কয়েকটি সিনেমা আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারলেও নিজের অবস্থান থেকে তিনি বিচ্যুত হননি। বড় স্ট্রিমিং সাইটগুলোর লোভনীয় প্রস্তাবে তিনি কখনো প্রলুব্ধ হননি। আজ আর্থিকভাবে তিনি লাভবান হয়েছেন।
টানা কিছু ব্যর্থতার পর যারা এসআরকেকে খরচের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন, তারা এখন সুর পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন। রাজা ফিরে এসেছেন এবং সিংহাসনের বৈধ অধিপতি তিনিই।
বলিউড বিশ্লেষক তরণ আদর্শের লেখাটি বলিউড হাঙ্গামা থেকে অনূদিত










