বলিউডের অন্যতম সুপারস্টার বিনোদ খান্না। ষাটের দশকের শেষের দিকে তিনি তারকাখ্যাতি অর্জন শুরু করেন। কিন্তু সত্তরে এসে ফিকে হয়ে যান। অনেকের ধারণা অমিতাভ বচ্চনের খ্যাতি এর পেছনে কাজ করেছিল। কিন্তু বাস্তবিক, বিনোদ খান্নার ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনে অমিতাভের কোনো প্রভাব ছিল না। বিনোদের নিজের কিছু কাজই তাকে ছিটকে ফেলেছিল ট্র্যাক থেকে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ ছিল আধ্যাত্মিক গুরু রজনীশের সান্নিধ্য লাভ। তিনি এ কারণে সিনেমা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। বিনোদ খান্না দীর্ঘদিন রজনীশের আশ্রমে ছিলেন। কেবল অভিনেতার জীবনই না, একজন পিতা ও স্বামীর দায়িত্বও তিনি ছেড়েছিলেন এ কারণে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ভারতের সাংবাদিক ভাবনা সোমায়া।
হিন্দি রাশ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভাবনা এ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, বচ্চনের জায়গায় বিনোদেরই থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি নিজের দোষেই তা হারিয়েছেন। তবে এতে অমিতাভ কোনো প্রভাব তৈরি করেননি। ভাবনা বলেন, ‘বিনোদ খান্নার ক্যারিয়ারের পড়তি দশার কারণ অমিতাভ ছিলেন না। খান্না ছিলেন একজন সুদর্শন অভিনেতা। তিনি প্রতিভাবানও ছিলেন। কিন্তু নিজের মধ্যেই হারিয়েছিলেন। এর অন্যতম কারণ বিনোদ খান্না রজনীশের শিষ্য হয়েছিলেন। তিনি একটি প্রেস কনফারেন্স ডেকে সিনেমা থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দেন।’

ভাবনা আরো জানান, এ সময় মূলত অমিতাভই এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কখনো চাননি, বিনোদ খান্না অভিনয় ছেড়ে দিন। তিনি বলেন, ‘অমিতাভ নিজে থেকে তাকে বলেছিলেন অভিনয় না ছাড়ার জন্য। তিনি একা নন, শশী কাপুরও ছিলেন তার সঙ্গে। অন্য অভিনেতা ও নির্মাতারাও বিনোদ খান্নার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না।’
ভাবনা জানান, এ সময় বিনোদ কারো কথাই শোনেননি। তিনি রজনীশের এতটাই ভক্ত হয়ে পড়েন যে নিজের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করেননি। রজনীশের আশ্রমে তিনি অনেক দিন ছিলেন। এরপর এসে ক্যারিয়ারও নতুন করে শুরু করেছিলেন। ভাবনার মতে সে শুরুটা খুব একটা খারাপ ছিল না।
এদিকে বিনোদ খান্না নিজেও তার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে অনুশোচনা করেছেন। সিমি গারওয়ালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি অনেকটা অনুশোচনার সুরেই সে কথা বলেছেন। নিজেকে ‘স্বার্থপর’ উল্লেখ করেছেন তিনি। বিনোদ খান্না বলেন, ‘একজন ব্যক্তি স্বার্থপর না হলে এমন কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ মোক্ষ খুঁজতে গেলে সেটা করতে হয় এবং একা হয়ে যেতে হয়।’ বিনোদ খান্না এ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার সিদ্ধান্তে তার পরিবার সন্তুষ্ট ছিল না। কিন্তু এ রকম একটা ক্ষেত্রে মানুষকে একাই থাকতে হয়। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ দুনিয়ায় একা এসেছে, একাই তাকে চলতে হয়। তারপর চলেও যাবে একা।’
বিনোদ খান্নার পূত্র অক্ষয় খান্না অবশ্য আত্মকেন্দ্রিকতায় বিশ্বাসী। সিমির সঙ্গেই আরেকটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আত্মকেন্দ্রিকতায় বিশ্বাসী। ব্যক্তিকে নিজের সুখ খুঁজে নিতে হয়। তিনি নিজে যদি খুশি না থাকেন, অন্য কাউকে খুশি রাখাও তার পক্ষে সম্ভব হয় না।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










