বলিউডে চলছে হরর ও হরর-কমেডির মৌসুম। বাজার ভালো যাচ্ছে এসব সিনেমার। স্ত্রী টু মুক্তির পর শাহরুখ খানের সিনেমার ওপেনিং রেকর্ড ভাঙে তা। এর আগে ২০২২ সালে ভুল ভুলাইয়া টু বক্স অফিসে ভালো করেছে। এ বছর মুক্তি পেল ভুল ভুলাইয়া থ্রি। ১৭ বছর পর মঞ্জুলিকা চরিত্রে ফেরেন বিদ্যা এবং সিনেমাটিও বক্স অফিসে সাফল্য পায়। সিংহাম অ্যাগেইনের সঙ্গে মুক্তি পেলেও সিনেমাটি নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। তাই অনেকেই এ জনরার আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর আগে মুক্তি পেয়েছে মুঞ্জ্যা নামের একটি সিনেমা। সেটিও ভালো ব্যবসা করেছে বক্স অফিসে। প্রশ্ন হচ্ছে, ভূতেরা বলিউডকে বাঁচাতে পারবে কিনা?

২০২৩ সালে জওয়ান, পাঠান, ডাঙ্কি ও গদর টু সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। এর মধ্যে তিনটি সিনেমাই শাহরুখ খানের। এ বছর তার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। সালমান খান আছেন মৃত্যুর হুমকিতে। অক্ষয় কুমারের সিনেমা টানা ফ্লপ করছে। এর মধ্যে বক্স অফিসে স্ত্রী টু আয় করেছে ৮৭৫ কোটি রুপির মতো। ৩০ কোটি রুপিতে নির্মিত সিনেমা মুঞ্জ্যা আয় করেছে ১৩২ কোটি রুপির বেশি। ভুল ভুলাইয়া থ্রির আয় ৩৫০ কোটি রুপির মতো। বলা যায়, এ জনরাই চলতি বছর বলিউডকে বেশি আয় দিয়েছে।

29

চলচ্চিত্র সমালোচক মায়াঙ্ক শেখর বলেন, ‘ভয় আর মজার মিশেল দিয়ে তৈরি বলে হরর-কমেডি জনরাটা দর্শক পছন্দ করে। তারা বিনোদিত হয়। আপনি একদিকে শিহরিত হচ্ছেন আরেক দিকে আনন্দিত। হেসে কুটিকুটি হচ্ছেন হলে। তাই এ ধারার সিনেমা দর্শক পছন্দ করছে।’

অন্যদিকে রেডিও জকি হিসেবে জনপ্রিয় অপূর্ব বলেন, ‘আমরা প্রথম বা মূল সিনেমাটা পছন্দ করেছিলাম, তাই সিকুয়ালটাও দেখতে গেছি।’

অপূর্বর এ কথার মধ্যে একটা বড় সূত্র আছে। ভুল ভুলাইয়া ২০০৭ সালের সিনেমা। এর আগে পরে বাংলা, তামিল, তেলেগু ভাষায়ও নির্মিত হয়। সিনেমাটির একটা আবেদন আছে। দ্বিতীয় সিনেমাটি সেই কারণে ও তৃতীয় সিনেমায় বিদ্যার অন্তর্ভুক্তি এ দুই সিনেমার বাজার বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া স্ত্রীর সিকুয়ালও দর্শক পুরনো সিনেমার টানে অনেকেই পছন্দ করেছেন। পাশাপাশি অমর কৌশিক রীতিমতো ভূত-ভার্স (ভূত ইউনিভার্স) বানাতে চাইছেন। কেননা ভেড়িয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন স্ত্রীর গল্প।

সত্তর ও আশির দশকেও বলিউডে হরর সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা হয়েছে। র‍্যামসে ভাইরা চেষ্টা করেছেন। দো গজ জমিন কে নিচে (১৯৭২) ও পুরানা মন্দির (১৯৮২) তাদের অন্যতম দুই প্রচেষ্টা। সিনেমা দুটো ভালো ব্যবসা করেছিল তবে মনে রাখার মতো হয়নি। অনেক পরে মহেশ, মুকেশ ও বিক্রম ভাট এ জনরার সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। রাজ মুক্তি পায় ২০০২ সালে কিন্তু খুব একটা আলোচনা তৈরি করতে পারেনি। ডরনা মানা হ্যায়, ডরনা জরুরি হ্যায় নামে ২০০৩ ও ২০০৬ সালে সিনেমা হয়েছে। কোনোটিই কল্কে পায়নি। রাজকুমার কোহলির জানি দুশমন: এক আনোখি কাহানি (২০০২) রীতিমতো ট্রলের শিকার এখনো। বলিউড মূলত হরর সিনেমা কখনো নির্মাণ করতে পারেনি। তবে হরর কমেডিতে দর্শক টানতে পেরেছে।

এর আরেকটি কারণ ফ্যামিলি ড্রামা, রোমান্টিক, কমেডি ও অ্যাকশনের পর দর্শক মুখ বদলাতে চেয়েছে। সেখানে এসে পড়েছে হরর-কমেডি। আপাতত তারা এটা পছন্দ করছেন। বিকাশ বেহল পরিচালিত অজয় দেবগন, আর মাধবন অভিনীত, ৪০ কোটি রুপিতে নির্মিত শয়তান আয় করেছে ২১১ কোটি রুপি। অথচ এ ধারার গল্প ১০ বছর আগেও দর্শক দেখতে চাইত না।

এত সব মিলিয়ে বলা যায়, দর্শক আপাতত এ জনরাকে গ্রহণ করেছে, কিন্তু কতদিন তা নিয়ে মেতে থাকবে বলা মুশকিল। এ জনরায় খুব বেশি সিনেমা এখনো নির্মিত হয়নি। আরো কিছু সিনেমা নির্মিত হলে বাস্তবতা বোঝা যাবে। তবে আপাতত বলিউড ভূত-প্রেমের ওপরই নির্ভর করছে—এমন কথা অতিশয়োক্তি হবে না।