অনেক পরিচয় প্রভুদেবার—নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা, কোরিওগ্রাফার, পরিচালক। দক্ষিণের সিনেমায় দারুণ অভিনয়, নাচের পর তিনি বলিউডেও অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি পরিচালনাও করেছেন বেশকিছু সিনেমা। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া সালমান খান অভিনীত ওয়ান্টেড দিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি সাফল্য পান। তবে সেটা পরিচালক হিসেবে। এর আগেই অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে তার যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। এরই মধ্যে নব্বইয়ের দশকে যারা দক্ষিণের সিনেমার কথা জানতেন না, তারাও মোকাবেলা ও উর্বশী গান দুটোর সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। এ দুই গানে অদ্ভুত রকম নাচ দিয়ে প্রভুদেবা নাচের ধারাটাই বদলে ফেলেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মোকাবেলা নাচার সময় তার পায়ের লিগামেন্ট ছেঁড়া ছিল। এ কারণে এক পায়ে ভর করে নেচেছিলেন তিনি।

গানটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া কাদালান সিনেমার। এ সময় প্রভুদেবার পায়ে চরম ব্যথা ছিল। তিনি বলেন, ‘‌পুরো নাচটা আমি ডান পায়ে ভর দিয়ে করেছি।’ একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এ গানের শুটিংয়ের সময় তার বাম পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ করা ছিল। ও টু ইন্ডিয়ার সঙ্গে এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‌ মোকাবেলার আগে এ সিনেমার জন্য একটা ফাইট সিকোয়েন্স শুট করতে হয়েছিল। সিকোয়েন্সটি করতে গিয়ে বাম পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। আমি তখন জানতামও না লিগামেন্ট কী। কিন্তু হাঁটতে পারছিলাম না।’ একটি গান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন প্রভুদেবা। 

কিন্তু হাঁটতে না পারলেও মোকাবেলার জন্য তাকে নাচতে হয়েছিল। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌বাম পা নাড়াতে পারছিলাম না। প্রচণ্ড ব্যথা ছিল। আমার মাথায়ও সেটা ছিল, তাই শরীরের ভর নিয়ে গিয়েছিলাম ডান পায়ে। পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধেছিলাম। জুতো পরেছিলাম দুই রকম। এক পায়ে ৯ এবং অন্য পায়ের জুতো ছিল ১০ সাইজের।’

বয়স কম থাকায় ব্যাপারটা সামলে নিতে পেরেছিলেন বলে মনে করেন তিনি। তবে এর মাশুলও তাকে দিতে হয়েছিল। নাচের পরের অবস্থা নিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘‌আমি বাড়ি ফেরার পর ব্যথাটা টের পাচ্ছিলাম। নাচের সময় আসলে এগুলো মাথায় থাকে না। খুব শক্ত করে ব্যান্ডেজ করেছিলাম। জুতোটা তাই এঁটে বসেছিল। নাচের সময় ব্যথার চেয়ে তাই ব্যান্ডেজটাই ছিল মাথাব্যথার ব্যাপার।’

সূত্র ও ছবি: পিপা নিউজ