তিনি নর্স পুরাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সিনেমায় তাকে এনেছিল মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স। অ্যাভেঞ্জার্সের প্রথম দফার হিরো তিনি। নিক ফিউরির তৈরি করা অ্যাভেঞ্জার্স টিমের অন্যতম অ্যাভেঞ্জার থর। বজ্রের এ দেবতাকে মর্ত্যে এনেছিল মার্ভেল। থরের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ। অ্যাসগার্ডের এ দেবতা পৃথিবীতে এসে অ্যাভেঞ্জার্সের সঙ্গে বধ করেছেন বহু শত্রু। থরকে নিয়ে শেষ সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন টাইকা ওয়াইটিটি। ‘থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডার’ সিনেমার মধ্য দিয়ে এক রকম শেষই হয়েছে থরের যাত্রা। শেষ হওয়ার কারণ বিবিধ। এর মধ্যে ক্রিস হেমসওয়ার্থের ক্যারিয়ারের নতুন পছন্দ তৈরি ও এমসিইউর নতুন পরিকল্পনার পাশাপাশি আছে ওয়াইটিটির থিমের প্রতি দর্শকের কিছু আপত্তি। তবু এত কিছুর পরও থর নিয়ে পরিকল্পনা ছিল টাইকার। সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলেছেন টাইকা ওয়াইটিটি।
থরের পঞ্চম সিনেমা আসার কোনো লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে স্ক্রিনর্যান্টের সঙ্গে এক কথোপকথনে টাইকা জানালেন থরকে এগিয়ে নেয়ার ইচ্ছা তার ছিল। এক্ষেত্রে তিনি হেলার চেয়েও শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে থরকে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তাকে দিয়ে কী করানো বাকি আছে? এমন কিছু আনা যেত যেখানে দেখা যাবে চরিত্রটির বিবর্তন হয়েছে। বিষয়টিতে মজা রাখার দরকার ছিল। পাশাপাশি এমন কিছু দেখাতে হবে যে তার সামনে কঠিন কঠিন চ্যালেঞ্জ আসছে যা আগে কখনো আসেনি। এ বাধাগুলো সে পার করে যাচ্ছে।’
থরকে নিয়ে অনেকটাই ভেবেছিলেন টাইকা। তাকে এমন কারো সামনে দাঁড় করাতে চাচ্ছিলেন যে থরের অন্য সব শত্রুর চেয়ে বড়। টাইকা বলেন, ‘আমার মনে হয় না হেলার চেয়ে কোনো দুর্বল খল চরিত্রের সামনে থরকে দাঁড় করানোর সুযোগ আছে। আমার মনে হয় হেলার চেয়ে শক্তিশালী কোনো চরিত্রকে আনতে হবে এবং থর তাকে মোকাবেলা করবে।’
থর এখন পর্যন্ত যে শত্রুদের মোকাবেলা করেছে তার মধ্যে হেলাকেই সবচেয়ে শক্তিশালী বলা যায়। থরের বড় শত্রুরা কোনো না কোনোভাবে তার আত্মীয়। এর আগে থরকে মোকাবেলা করতে হয়েছে ভাই লোকির। এরপর সে মোকাবেলা করেছে বোন হেলার। আসলে থর মোকাবেলা করেছে আলট্রন, থ্যানোসেরও কিন্তু সেগুলো ছিল অ্যাভেঞ্জার্সের সঙ্গে। থরের নিজের গল্পে শক্তিশালী ছিল হেলা। শেষ সিনেমায় ‘থর: দ্য গড বুচার’কে দেখানো হয়েছে, কিন্তু কোনো না কোনোভাবে সে হেলার তুলনায় কম শক্তিশালী। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া র্যাগনারকে দেখা গেছে হেলাকে। কেট ব্ল্যানচেট অভিনয় করেছিলেন হেলার চরিত্রে। থরের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র মিয়োনিয়ার ভেঙে ফেলেছিল হেলা। থরকে করেছিল ঘরছাড়া। টাইকা এর চেয়েও মারাত্মক খল চরিত্র খুঁজেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘থরের ক্ষেত্রে একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনারা তাকে যখন ভিন্ন ভিন্ন ইউনিভার্সে দেখবেন সেখানে তার ধারা ভিন্ন। সে নানা এলিয়েনের মোকাবেলা করে। তখন তার চরিত্র ভিন্ন।’
আসলে থরকে একটু বেশিই ভিন্ন চরিত্রে নিয়ে গেছেন টাইকা। তিনি নিজের মতো নির্মাণ করেছিলেন র্যাগনারক ও লাভ অ্যান্ড থান্ডার। দ্বিতীয় সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের অভিযোগ খুব বেশি। ফলে নতুন সিনেমা আসার সম্ভাবনা খুব কম। এর মধ্যে ক্রিস হেমসওয়ার্থও বলেছেন, ‘দর্শক যখন চরিত্রটি দেখার ক্লান্তি থেকে বের হতে পারবে, তারপর আমি ফেরার চিন্তা করব।’ মূলত মার্ভেল যেভাবে এগোচ্ছে তাতে থরের সিনেমা আসার সম্ভাবনা নেই। তবে ওয়াইটিটি সিনেমা নির্মাণে আগ্রহী।
সূত্র: ভ্যারাইটি










