দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটিয়ে তার দেশে ফেরা। মডেলিং দিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় যাত্রা করেন এবিএম সুমন। ২০১৫ সালে ‘অচেনা হৃদয়’ সিনেমার মধ্য দিয়ে অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ারের সূচনা। ঢাকা অ্যাটাকে আশফাক চরিত্রে অভিনয় করার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। চলতি বছর ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমার জন্য দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয়সহ নানা ভাবনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
মডেল থেকে সিনেমার নায়ক। রুপালি জগতে আসার পরিকল্পনা কি আগেই ছিল?
এমন কোনো পরিকল্পনা বা ইচ্ছে ছিল না যে আমি মিডিয়ায় নিজের ক্যারিয়ার করব। দেশের বাইরে ছিলাম, সেখান থেকে ফিরে আসার পর কিছু কাজের প্রস্তাব পেলাম। এভাবেই শুরু হয়েছিল।
দেশের বাইরে থেকে এসে এখন মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন। এতে কি আপনি সন্তুষ্ট?
জীবন নিয়ে আমার দর্শন আলাদা। জীবন যে দিকে মোড় নেয়, সেটা নিয়েই আমি খুশি। আমার পছন্দ না কিন্তু করতে হবে, এমন কোনো কাজ আমি করতে পারি না। দেশের বাইরের যে জীবন ছিল, সেটাও আমার ভালো লাগত। এখন যা করছি, তাও ভালো লাগা থেকেই করা। এ পর্যন্ত যেসব কাজে সম্পৃক্ত থেকেছি, এর মধ্যে অভিনয় আমার জীবনের বড় তৃপ্তি। অভিনয় উপভোগ করি। আনন্দ নিয়ে কাজ করি। তাই নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট আছি।
‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমায় আপনার চরিত্রের জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন। এ সিনেমায় আপনার জার্নি কেমন ছিল?
যখন বিউটি সার্কাসের শুটিং হয়, তখন একদম নতুন ছিলাম মিডিয়ায়। ওই সময় নিজেকে প্রমাণ করা, ভালোভাবে একটা চরিত্র উপস্থাপন করার জন্য চরিত্রের সব বিষয় নিজের ভেতর ধারণ করার চেষ্টা করেছি। গল্পটা দর্শক পর্দায় যেমন দেখেছে, প্রথমে তেমন ছিল না, অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। বিউটি সার্কাসের ‘রঙলাল’ হয়ে ওঠার জন্য আমার গেটআপেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। চুল-দাড়ি বড় করতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে বলা যায়, আমি এই জার্নিটা উপভোগ করেছি।
জয়া আহসানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই?
বিউটি সার্কাসের মাধ্যমে আমি জয়া আপার সঙ্গে কাজ করেছি। এ অভিজ্ঞতা খুব দারুণ ছিল। আমরা সবাই জানি, তিনি অসাধারণ অভিনয় করেন। অনেক আগে থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল, তার সঙ্গে কাজ করার। উনি কোনো মঞ্চ থেকেও উঠে আসেননি। শুধু নিজের চেষ্টায় অভিনয়টা ধারণ করেছেন। এটা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করে। এ রকম একজন মানুষের সঙ্গে অভিনয় করতে গেলে অনেক কিছু শেখা যায়। অভিনয়ের নানা ধাপ, কীভাবে আরো ভালো করা যায়, বিষয়গুলো জানার জন্য আমি তার সঙ্গে অভিনয় করতে চাইতাম। যখন সুযোগ এল তার সঙ্গে কাজ করার, করে ফেললাম।
সামনের দিনগুলোয় কোন ধরনের গল্প আর চরিত্রে অভিনয় করতে চান?
এমন অনেক চরিত্র থাকে, যার স্বাধীনতা থাকে না। এ ধরনের চরিত্রে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। চরিত্রে পাগলামির স্বাধীনতা না থাকলে আসলে অভিনয় করে মজা পাওয়া যায় না। তাই স্বাধীনতা আছে এবং এর সঙ্গে ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ আছে, এমন চরিত্র আমি প্রত্যাশা করি।
সামনে কোন প্রজেক্টে আপনাকে দেখতে পাবে দর্শক?
‘অন্তর্জাল’, ‘গিরগিটি’ এ সিনেমা দুটো আগামী বছর আসতে যাচ্ছে। এছাড়া কিছু প্রজেক্ট নিয়ে কথা চলছে।
ওটিটিতে কি আপনাকে দেখা যাবে?
অবশ্যই। যদি সবকিছু ঠিক থাকে, সামনে ওটিটিতেও দর্শক আমাকে দেখতে পাবে। ভালো চরিত্র আর গল্প- যাতে আনন্দ আছে, এমন প্রজেক্ট এলে আমি অভিনয় করব।
এমআর-নাইন সিনেমাটির কাজ এখন কোন পর্যায়ে?
শুটিং শেষ হয়েছে। গত মে-জুনে যুক্তরাষ্ট্র আর বাংলাদেশ মিলিয়ে এ সিনেমার শুটিং হয়েছে। কিছু কাজ বাকি এখনো। শিগগিরই আমরা শেষ করব। এর বেশি এখন এ নিয়ে না বলি।










