বছরের শুরুতে বেশকিছু সিনেমা বাতিল করেছিল ওয়ার্নার ব্রোস। বলাই বাহুল্য, সিনেমাগুলো ডিসির। এরই মধ্যে বছরের শুরুতে দ্য ব্যাটম্যান ও বছরের শেষে ব্ল্যাক অ্যাডাম দিয়ে ভালো ব্যবসা করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু তার পরও নতুন সিনেমা বাতিল করছে ওয়ার্নার ব্রোস। ডিসি স্টুডিও তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা নতুন করে সাজাচ্ছে। ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারির সিইও ডেভিড জাসলাভের কাছে ডিসি স্টুডিওর পিটার স্যাফরান ও জেমস গুন আগামী সপ্তাহে তাদের নতুন পরিকল্পনা জানাতে পারেন। এখান থেকেই ধারণা করা হচ্ছে কিছু সিনেমা বাতিল হতে পারে, যার মধ্যে থাকবে ওয়ান্ডার ওম্যানের সিকুয়েল, এমনকি ম্যান অব স্টিল।

এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে ধারণা করা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য কারণে সিনেমাগুলো তৈরি না করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এক্ষেত্রে ডিসি-সিনেমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ হলো জ্যাক স্নাইডারের তৈরি করা সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সটি শেষ হয়ে যেতে পারে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে ‘‌অ্যাকুয়াম্যান অ্যান্ড দ্য লস্ট কিংডম’ দিয়ে এ যাত্রা শেষ হয়ে যাবে। ভ্যারাইটির একটি রিপোর্ট জানাচ্ছে, ওয়ান্ডার ওম্যানের সিকুয়াল না আসার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা প্যাটি জেনকিনস ওয়ান্ডার ওম্যান নিয়ে তার পরিকল্পনা জমা দেয়া হলে ডিসি স্টুডিও জানিয়েছে, স্টুডিওর পরিকল্পনার সঙ্গে তার পরিকল্পনা মিলছে না। কিন্তু গাল গাদতের পোস্ট অবশ্য অন্য কথা বলছে। তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘‌এ চরিত্রে অভিনয় করে আমি কৃতজ্ঞ। পরবর্তী পর্বে অভিনয়ের লোভ সামলাতে পারছি না।’

এর মধ্যে ব্ল্যাক অ্যাডামের সাফল্যের পর দর্শকরা ডিসির প্রতি নতুন করে মনোযোগ তৈরি করেছে। এমনকি হেনরি ক্যাভিল নিজে পোস্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ফিরছেন সুপারম্যান হিসেবে। কিন্তু সেখানেও এখন তৈরি হচ্ছে শঙ্কা। কেননা হলিউড রিপোর্টার বলছে, হেনরি ক্যাভিল বা ডোয়াইন জনসন ডিসির সিনেমায় ফিরতে নাও পারেন। কেননা দর্শক গ্রহণ করলেও ব্ল্যাক অ্যাডাম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে। এ লোকসান মাথায় রেখে ডিসি স্টুডিও ম্যান অব স্টিলের সিকুয়ালও বাদ দিতে পারে। 

একাধিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ডিসি ও ওয়ার্নার ব্রোস। প্রথমত, কভিডকালে থিয়েটারে দর্শক অনুপস্থিতি এবং এর সঙ্গে মার্ভেলের একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা দর্শক টেনেছে দারুণভাবে। পিছিয়ে পড়েছে ডিসি। সে সূত্রেই এ বছরের শুরুতে বাদ পড়েছিল ব্যাটগার্ল। অন্যান্য সিনেমাও আশানুরূপ সাড়া পায়নি।

ডিসির নিবেদিতপ্রাণ ভক্তদের আস্থা বা ভালো লাগার জায়গা স্নাইডার। ২০১৩ সালের ম্যান অব স্টিল দিয়ে এ যাত্রা শুরু। এরপর অ্যাকুয়াম্যান, ফ্ল্যাশ, জাস্টিস লিগ ও অন্যান্য সিনেমা দিয়ে স্নাইডারের আলাদা সিগনেচার ইউনিভার্স তৈরি হয়ে যায়। তার ধূসর চিত্রায়ণ ও চরিত্রায়ন একটি বিশেষ শ্রেণীর দর্শকের খুব পছন্দ হওয়ার পাশাপাশি অন্য ভাগটি ততটা পছন্দ করে না। 

এর বাইরে এজরা মিলার, রে ফিশারদের কারণে তৈরি হওয়া বিতর্কও আগুনে ঘি ঢেলেছে। অ্যাকুয়াম্যানে অ্যাম্বার হার্ডের থাকা না থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

ডিসি ও ওয়ার্নার ব্রোস মূলত মূল্যস্ফীতি মাথায় রেখেই পরবর্তী পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ক্যাভিলকে সুপারম্যান চরিত্রে ফিরিয়ে আনা ওয়ার্নার ব্রোস ও ডিসি স্টুডিওর জন্য লাভজনকই হবে, কেননা দর্শকরা আগ্রহী হয়ে আছে। তবে ওয়ান্ডার ওম্যান বন্ধ হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্নার ব্রোসের বাইরে গিয়ে সিনেমাটি নির্মাণের কথা ভাবছেন প্যাটি জেনকিনস।


সূত্র: ভ্যারাইটি