শেষ হলো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব। যথারীতি এবারো পুরস্কারে দেখা গেল চমক। সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে ‘ফাদার মাদার সিস্টার ব্রাদার’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জিম জারমাশ। গোল্ডেন লায়ন উঠেছে তার হাতে। অন্যদিকে সেরা পরিচালক নির্বাচিত হলেন বেনি সাফদি। ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’ সিনেমার জন্য তিনি এ স্বীকৃতি পেলেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় জিম জারমাশের পরনে ছিল মেরুন স্যুট ও চোখে তার ট্রেডমার্ক সানগ্লাস। তিনি বলেন, ‘সিনেমা নির্মাতা হিসেবে আমরা যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হই, বিষয়টা এমন নয়। কিন্তু এটাকে আমি সত্যিই প্রশংসা করি।’
পাশাপাশি তিনি ভেনিস ও ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। জিম বলেন, ‘ক্যাসানোভা, ভিভালদি ও টেরেন্স হিলের এ শহরকে ভালোবাসি।’ পুরস্কারের যোগ্য বিবেচনা করার জন্য জুরি ও সিনেমার দর্শককেও ধন্যবাদ জানান তিনি। আরো একটি ইতিবাচক দিক হলো, দ্য স্ম্যাশিং মেশিন নির্মাতা বেনি সাফদিরও প্রশংসা করেন। জিম জারমাশ বলেন, ‘আর্টকে সবসময় রাজনীতি দিয়ে কথা বলতে হবে এমন নয়। মমতা দিয়েও কথা বলা যেতে পারে। সমস্যা সমাধানের এটা প্রথম পর্যায়।’

এবার ভেনিস কথা বলল অত্যাচারিতের পক্ষেও। প্রতিযোগিতা পর্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বেন হানিয়া পরিচালিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’। মূলত পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মেয়ে হিন্দ রজবকে নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বেন। গত বছর পরিবারের সঙ্গে গাজা ছাড়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয় রজবের। এ সিনেমায় বেন ব্যবহার করেছেন, বাঁচার জন্য রজবের ঘণ্টাভরের আকুতি। কিন্তু দুটো অ্যাম্বুলেন্স গিয়েও রজবকে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেনি। সিনেমাটি ভেনিসে সিলভার লায়ন পেয়েছে।
পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দের আর্তনাদ সারা বিশ্বের শোনা উচিত। সিনেমা তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। কিন্তু তার আর্তনাদ সবার কানে বাজতে থাকবে।’
সিনেমাটি প্রদর্শনীর দিন ২৩ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছিল। ভেনিসে এটি সর্বোচ্চ। দর্শকের উদ্দেশে জিম আরো বলেন, ‘কেবল রজবকে মনে রাখলেই হবে না। সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে তার মা ও ভাই এখনো গাজায় আছেন। তাদের জীবন এখনো হুমকির মধ্যে। আমি বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানাব যেন তাদের উদ্ধার করার ব্যবস্থা করেন।’ হিন্দের মায়ের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ফিলিস্তিনের মুক্তির আগ পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ।’
এদিকে সেরা পরিচালকের পুরস্কার সিলভার লায়ন জিতলেন বেনি সাফদি। স্পোর্টস বায়োপিকটি নিয়ে বেশির ভাগ গণমাধ্যমে সমালোচকরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। অনেকে এমনো জানিয়েছেন, এ সিনেমা দিয়ে অস্কারে যেতে পারেন ডোয়েইন জনসন। পুরস্কার পেয়ে সাফদি উচ্ছ্বসিত এবং তিনি একে নিজের সৌভাগ্য উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা আসলে স্বপ্ন সত্য হওয়ার মতো একটা বিষয়। এখানে আমি সিনেমার বড় বড় মানুষের মধ্যে উপস্থিত হয়েছি। সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে আমরা মমত্ববোধের কিছু বার্তা দিতে চেয়েছি। এ সবকিছু সম্ভব হয়েছে আমার বন্ধু ডোয়েইন জনসনের কারণে।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










