ইরানের সিনেমা ও সিনেমা অঙ্গন কঠিন সময় পার করছে। জাফর পানাহি বেশ কিছুদিন কারাবাস করেছেন। একই ঘটনা ঘটেছে তারানেহ আলিদুস্তির সঙ্গে। সম্প্রতি খুন হয়েছেন দারিউস মেহেরজুই। কিন্তু এতসবের মধ্যেও ইরানি সিনেমা তার মান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কেবল তা-ই নয়, সিনেমাগুলো আন্তর্জাতিক সম্মানেও ভূষিত হচ্ছে। যেমন এ মাসেই দুটি ইরানি সিনেমা আমেরিকায় পুরস্কৃত হয়েছে। ১-৪ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ১৪তম ড্রিফটলেস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। সেখানে পুরস্কৃত হয়েছে ইরানি সিনেমা ‘লোতেরিয়া’ ও ‘হোমা’। এর মধ্যে লোতেরিয়া ফিচার ফিল্ম ও হোমা একটি ডকুমেন্টারি।
ড্রিফটলেস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার পেয়েছে লোতেরিয়া। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন আলী আতসানি। এর গল্প এমন একজন মানুষকে নিয়ে যে বারবার অবৈধভাবে সীমানা পার করার চেষ্টা করে। সে মেক্সিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়। কেননা একটা উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে সে। সিনেমাটি বাস্তব ঘটনার নিরিখে নির্মিত। ২০১৭ সালে ইরান থেকে বহু অভিবাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
সিনেমায় অভিনয় করেছেন বোরজু আর্জমান্দ, আমির হোসেন মৌসাভি, হামেদ তাভাসোলি ও হুমান সেপান্তমেহর। হোমা নামের তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছে গেলারেহ আব্বাসি। চলচ্চিত্রটি ফুসাগাসুগা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অনারেবল মেনশন পেয়েছিল। এ তথ্যচিত্রটি হোমা নামের এক নারীকে নিয়ে নির্মিত। সে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তথ্যচিত্রে হোমা নামের এ নারীর একটি অসাধারণ যাত্রা দেখানো হয়। সে কেমন করে সব ধরনের প্রতিকূলতা পার করে এগিয়ে যায়, সে গল্পই বলে তথ্যচিত্রটি।
গেলারেহ আব্বাসি এরই মধ্যে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। হোমার মাধ্যমে পরিচালনায় অভিষেক হলো তার। আর এ চলচ্চিত্র গেলারেহর পরিচালনার একটি অসাধারণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভিজুয়ালের পাশাপাশি তিনি চরিত্রের গভীরে ডুব দিয়েছেন একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে। তথ্যচিত্রের ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ বিরল। এর আগে অবশ্য টেলিভিশন ও থিয়েটারে নিজের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছিলেন গেলারেহ। এবার প্রমাণ করলেন ক্যামেরার পেছনেও সক্ষম তিনি।
এর আগে ফুসাগাসুগায়ও গেলারেহর নির্মাণ প্রশংসিত হয়েছিল। এবার ড্রিফটলেস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতলেন তিনি। চলচ্চিত্র উৎসবটি প্রতি বছরই আয়োজিত হচ্ছে। এতে ইনডিপেনডেন্ট সিনেমাকে উৎসাহ দেয়া হয়। পাশাপাশি উৎসবে বিশেষভাবে আহ্বান ও পুরস্কৃত করা হয় এমন সব সিনেমাকে, যা দর্শকের চিন্তাজগতে আলোড়ন তুলতে পারে। সে বিবেচনা থেকেই এবার ইরানের দুটি চলচ্চিত্রকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সূত্র: তেহরান টাইমস










