আইরিশ সংগীতশিল্পী শিনিড ও’কনার মারা গেছেন। ৫৬ বছর বয়সে পৃথিবী ছাড়লেন তিনি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর জানানো হলেও কারণ জানানো হয়নি। শিনিড বহুদিন ধরেই নানা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তবে তিনি অ্যালবাম নিয়ে ফেরার কথাও ভাবছিলেন। কিছুদিন আগে ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, তিনি নতুন অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছেন। ট্যুর প্ল্যানও করছিলেন শিনিড। এর মধ্যেই চলে গেলেন ‘নাথিং কমপেয়ারস টু ইউ’য়ের এ গায়িকা। তার মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও লন্ডনের পুলিশ জানিয়েছে, তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
শিনিড তার ক্যারিয়ারে নানা সময়ে বিতর্কে পড়েছেন। ডাবলিনে জন্ম তার। শৈশব কেটেছে নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে। কৈশোরে তাকে বন্দি করা হয়েছিল অ্যান গ্রিয়ানান ট্রেনিং সেন্টারে। শিনিডকে গিটার কিনে দিয়েছিলেন এক সন্ন্যাসী। এরপর তার মাধ্যমেই একজন সংগীত শিক্ষকের সঙ্গে শিনিডের পরিচয় হয়। শিনিড গানের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। তবে এর মধ্যেও রাজনৈতিক বক্তব্য ও জীবন দর্শনে স্পষ্টবাদী ছিলেন এ আইরিশ শিল্পী।
শিনিড ও’কনার তার ক্যারিয়ারে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৯০ সালে ‘নাথিং কমপেয়ারস টু ইউ’ শিনিডের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান। এর জন্যই তিনি বিশ্বে বেশি জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি লাভ করেন। তবে এর আগে থেকেই প্রাসঙ্গিক ছিলেন শিনিড। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল। ‘দ্য লায়ন অ্যান্ড দ্য কোবরা’ নামে অ্যালবামটি দারুণ সাড়া পায়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সেরা ৪০-এর তালিকায় ছিল শিনিডের গান। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্যারিয়ারে তিনি ১০টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ১৯৯১ সালে রোলিং স্টোনের তালিকায় তিনি ছিলেন বর্ষসেরা শিল্পী।
শিনিডের ছেলে মারা যায় গত বছর। সে সময় থেকে তার মানসিক সমস্যা বাড়তে শুরু করে। তবুও গান নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শিনিড। তবে তা আর সম্ভব হলো না।
সূত্র ও ছবি: বিবিসি










