ব্রডওয়ের মঞ্চ বহুবার আলোকিত করেছেন চিতা রিভেরা। দুবারের টোনি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী এ অভিনেত্রী মারা গেছেন মঙ্গলবার সকালে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় কিছুদিন ভুগে তিনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তার পাবলিসিস্টের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বুধবার এ সংবাদ জানানো হয়।
চিতা মূলত ওয়েস্ট সাইড স্টোরি দিয়ে পরিচিত। ওয়েস্ট সাইড স্টোরির বহু সংস্করণ হয়েছে আজ পর্যন্ত। এর মধ্যে তিনি প্রথম অর্থাৎ ব্রডওয়ের মৌলিক সংস্করণটিতে আনিতা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া ‘কিস অব দ্য স্পাইডার উইম্যান’ নাটকের মূল চরিত্র ও ব্রডওয়ের ‘শিকাগো’য় অভিনয় করেছেন ভেলমা কেলি চরিত্রে।
সিনেমার অভিনেত্রী না হওয়ায় চিতা সম্পর্কে তেমন আলোচনা মূলধারায় দেখা যায় না। তবে তিনি ছিলেন ব্রডওয়ের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী। ২০০৫ সালে নিউইয়র্ক টাইমস তার ক্যারিয়ার রেট্রোস্পোক্টিভ প্রকাশ করেছিল। ‘চিতা রিভেরার অভিনয় ও নাচকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি এ রেট্রোর নাম ‘চিতা রিভেরা: এ ডান্সার্স লাইফ’। সেখানে বলা হয়, ‘তার নাচ ও অভিনয়ের ছিল একটি বিশেষ ধারা এবং তিনি সেখান থেকে দর্শককে মুগ্ধ করেন।’
ক্যারিয়ারে চিতা বহু চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার অনেকগুলোই ব্রডওয়ে ও মঞ্চের অন্য অভিনয়শিল্পীদের জন্য অনুসরণীয়। কিন্তু মঞ্চের বাইরে তিনি তেমন কাজ করেননি। যদিও তিনি নিজে মনে করতেন যেকোনো ধারায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেন এবং এক্ষেত্রে নাচকে তিনি রেখেছিলেন অনেকটা উঁচুতে। নিজেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে উল্লেখ করতে পছন্দ করতেন রিভেরা।
রিভেরা তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ক্ল্যাসিকাল নাচ দিয়ে। সেই সময়, ১৯৫২ সালের কোনো একদিন এক বন্ধুর সঙ্গে তিনি ব্রডওয়ের অডিশনে আসেন। রিভেরার বন্ধু ‘কল মি ম্যাডাম’ নাটকের অডিশন থেকে সুযোগ না পেলেও রিভেরা পেয়ে যান। এরপর এক এক করে এসেছিল ‘ক্যান-ক্যান’, ‘সেভেনথ হেভেন’, ‘মিস্টার ওয়ান্ডারফুল’ ও ‘শিনবোন অ্যালি’।
এরপর ১৯৫৯ সালে এসেছিল ওয়েস্ট সাইড স্টোরি। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এ গল্প থেকে নাটক হয়েছে বহুবার। হয়েছে সিনেমাও। রিভেরা এর প্রথম সংস্করণে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন আর প্রমাণ করেছিলেন মঞ্চের একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রী হিসেবে। আনিতার চরিত্রটি ব্রডওয়ের দর্শকের কাছে আজও জনপ্রিয়।
নাচও চালিয়ে যাচ্ছিলেন রিভেরা। তবে ১৯৮৬ সালে তা থেমে যায়। একটি দুর্ঘটনায় তার ১২টি ফ্র্যাকচার হয়। অন্য কেউ হলে নাচ ছেড়েই দিতেন, কিন্তু রিভেরা দেননি। সুস্থ হয়ে আবার শুরু করেন। এদিকে ১৯৯৩ সালে তিনি মঞ্চে আসেন ‘কিস অব দ্য স্পাইডার উইম্যান’ নিয়ে। ১০ বছর পর তিনি আবার ফেরেন। এরপর মঞ্চে নিয়মিত কাজ করেছেন। সে কারণে ব্রডওয়ে ও মঞ্চে তিনি একজন কিংবদন্তি হিসেবেই থেকে যাবেন।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে আসরার আবেদিন










