বলিউডের মূল ধারার সিনেমা নিয়ে নানা ধরনের কথা চলছে। এর মধ্যে প্রধান আলোচ্য বিষয় বলিউড সিনেমার পিছিয়ে পড়া। ব্যবসা ও অন্যান্য কারণে বলিউড সিনেমা পিছিয়ে পড়ছে। এর কারণ হিসেবে কেউ দেখছেন নেপোটিজম, আবার কেউ দেখছেন পুরনো ধারা থেকে বলিউডের বেরিয়ে না আসা। এর মধ্যে প্রযোজক রনি স্ক্রুওয়ালা মনে করেন, নির্মাতারা দর্শকের ওপর নিজেদের ধারণা ও পছন্দ চাপিয়ে দিয়ে থাকেন।
রাজ সামানির সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘আমি জাজমেন্টাল হতে চাই না। তবে আমি মনে করি, আমরা আমাদের দর্শককে নিজেদের মনমতো কনটেন্ট দিয়ে যাচ্ছি। ভেবে নিয়েছি, তারা যা পাচ্ছে তাতেই খুশি। এটা একটা সমস্যা। আমরা কোনো পরিবর্তন আনিনি।’ সিনেমা বা যেকোনো জগতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসে। সে পরিবর্তন অনুসারে কাজ করতে হয়। মানুষ নিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এর সাহিত্য, সিনেমা বা যেকোনো ধারার ক্ষেত্রেই এ পরিবর্তন প্রভাব রাখে। কিন্তু বলিউড সে পরিবর্তন অনুসরণ করেনি। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও এ ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশ। এ নিয়ে আমি গর্বও করি। কিন্তু আমরা যেহেতু ছোট একটি পরিসরের মধ্যে থেকে কাজ করি, আমাদের কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে থাকতে হয়। একই কথা ঘুরেফিরে বারবার বলতে হয়।’
বলিউডের কথা বলতে গিয়ে রনি জানান, বলিউডে একা সব কাজ করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই এর ওপর অন্যদের প্রভাব থাকে। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন এমন সব মানুষের মধ্যে থাকেন, যারা আপনার কথা শেষ হওয়ার আগেই শেষ লাইন বলে ফেলে, বুঝতে হবে এটা একটা বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত হয়েছে।’
রনি স্ক্রুওয়ালা তার এ কথার মধ্যে বলিউডের পুরনো ধারার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে কেউ নতুন কিছু আনতে পারে না বা কোনো এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ নেই। কোনো না কোনোভাবে একজনের পরিকল্পনার মধ্যে অন্যজন ঢুকে পড়েন। এ কারণে কোনো কাজেই নতুন কিছু আসে না। কথোপকথনের একটা পর্যায়ে রনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কী অদ্ভূত একটা সংস্কৃতি। এখানে কোনো ভিন্নতা নেই। বৈচিত্র্যের জায়গাটা কোথায় থাকছে? আপনাকে চ্যালেঞ্জ করার কেউ নেই। ব্যক্তি এখানে তার নিজের দুনিয়ায় থাকে। নির্মাতারা নিজের ধারণাই দর্শকের ওপর চাপিয়ে দিতে চান।’
রনি স্ক্রুওয়ালা মূলত ইউটিভি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। এরপর তিনি আরএসভিপি মুভিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। তার হাত ধরে এসেছিল বারফি, পান সিং তোমর, চেন্নাই এক্সপ্রেস ও উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্টাইকের মতো সিনেমা।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










