নন্দিত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সিনেমা, নাটক, টিভিসি কিংবা ওটিটি সব মাধ্যমেই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন সমানতালে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে এখনো সব মাধ্যমেই কাজ করে যাচ্ছেন গুণী এ অভিনেতা। দেশের বাইরেও রয়েছে তার অভিনয়ের সুখ্যাতি। চঞ্চল চৌধুরী তার সাম্প্রতিক কাজ ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদ রহমান
তুফান মুক্তির আগেই দর্শকের মধ্যে তুফান চলছে। সিনেমায় আপনার ভূমিকা কী হতে যাচ্ছে পাঠককে জানাবেন?
তুফানে আমি একটা বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছি, চমকটা দর্শক হলে এলে দেখতে পাবে। এরই মধ্যে টিজার ও গান এসেছে। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস আছে। আশা করি, তারা নিরাশ হবে না। আমার ধারণা, এখন পর্যন্ত এটা হয়তো শাকিব খানের ক্যারিয়ারের সেরা কাজ আর রাফিরও।
ওটিটি, সিনেমা, নাটক সব ক্ষেত্রেই কাজ করছেন সমানতালে। এত কিছু ম্যানেজ করেন কীভাবে?
যখন যে ফরম্যাটে কাজ করি, প্রত্যেকটা ফরম্যাটে সেখানকার মতো আলাদা আয়োজন থাকে। যেমন টেলিভিশন নাটক স্বল্প সময়ের মধ্যে, ছোট পরিসরে, অল্প বাজেটে তৈরি হয়। সেটার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। যেহেতু টেলিভিশনে কাজ করেই আমার পরিচিতি, তাই এর প্রতি দায়বদ্ধতা তো অবশ্যই আছে। এখনো টেলিভিশনে কাজ করি, যদিও আগের তুলনায় ৯০ শতাংশ কাজ কমিয়ে দিয়েছি। বছরে কিছু কাজ নিজের ভালো লাগা থেকেই করি। আর ওটিটিতে বছরে তিন-চারটা করা হয়। আমাদের দেশে হইচই অথবা অন্যান্য যে প্লাটফর্ম আছে এগুলোয় কাজ করা হয়। ফিল্ম বানানোর জন্য যে ধরনের অ্যাফোর্ট দেয়া হয়, ওটিটিতে এখনো এ পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। তবে অতীতের চেয়ে এখন যারা ভালো কাজ করছে, এটাকে ফিল্ম হিসেবে ধরেই করছে। তাই আর্টিস্টদের চেষ্টা ও অংশগ্রহণ সে অনুসারেই থাকে। অতএব যখন যেটা করি, প্রত্যেকটা কাজের ধরন হিসাব করেই নিজেকে মানিয়ে নিই।
কারাগার থেকে কালপুরুষ, মাঝে আরো কিছু ওটিটি কনটেন্টে আপনি কাজ করেছেন। কোন সিরিজ বা চরিত্রটা আপনার বেশি পছন্দ?
আমি পছন্দ-অপছন্দ হিসাব করে কাজ করি না। চেষ্টা করি সব কাজই নিজের জায়গা থেকে ঠিকঠাকভাবে মনোযোগ দিয়ে করতে। সব চরিত্রই আমার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ থেকে করার চেষ্টা করি। আমার কাজ হচ্ছে অভিনয় করা। কোন অভিনয়টা দর্শক পছন্দ করবে, এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। আমার কাছে সব চরিত্রই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটা তো গেল চরিত্রের কথা, গল্প তৈরির ক্ষেত্রেও একেকজন ডিরেক্টরের একেক রকম গল্প হয়। প্রত্যেক ধরনের গল্পেরই আলাদা দর্শক থাকে। হয়তো একটা প্রজেক্ট একধরনের দর্শকের ভালো লাগল, একই গল্প আবার আরেক ধরনের দর্শকের ভালো লাগেনি। অর্থাৎ একই গল্প যে সব ধরনের দর্শকের ভালো লাগবে এমনটা নয়। দর্শকের ভেতরও একটা ক্যাটাগরি আছে। অতএব সে অনুযায়ী একটা কনটেন্টকে খারাপও বলতে পারব না বা সবাই দেখবে, এও বলব না। আমি বলতে পারি, সব কাজ সমান গুরুত্ব দিয়ে করি। বাকিটা দর্শকের ওপর নির্ভর করে।
একটা সময় দেশের টেলিভিশন চ্যানেলে দীর্ঘ ধারাবাহিকে আপনি থাকতেন, সে দিনগুলো মিস করেন?
মিস করা থেকে বড় কথা হচ্ছে টেলিভিশনে দীর্ঘদিন কাজ করেছি, কিন্তু দীর্ঘদিন গল্পের ধরন প্রায় একই ধরনের রয়ে গেছে। আমি চাই আমার ক্যারিয়ারে নতুন গল্প, চরিত্র, নির্মাতা আসুক। আধুনিক সময়ে মেধাবী নির্মাতা সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই ।
আর টেলিভিশনে বাজেট বা টেকনিক্যাল কিছু কারণে নতুন ভালো, প্রত্যাশিত কাজ হচ্ছে না। একেবারেই যে ভালো হচ্ছে না তাও নয়। ব্যতিক্রম কিছু কাজও হচ্ছে। আমি যে ধরনের কাজ করতে চাই টেলিভিশনে এমন কাজ কম হচ্ছে। এ কারণে টেলিভিশনে কাজ কম করা হয়। তবে হ্যাঁ, দীর্ঘদিনের কাজের জায়গা, অনেক নাটক ও সিরিয়ালে অভিনয় করেছি, তাই মিস তো অবশ্যই করি ।
পদাতিক নিয়ে কিছু বলুন...
পদাতিক মৃণাল সেনের বায়োপিক। এটা কর্মাশিয়াল কোনো চলচ্চিত্র নয়। একজন বিখ্যাত নির্মাতার জীবন ও কর্ম নিয়ে তৈরি সিনেমা। এটা হয়তো ইতিহাসে থেকে যাবে। আমার ভালো লাগার জায়গাটা হচ্ছে মৃণাল সেন যে মানের নির্মাতা তার চরিত্রে অভিনয় করতে পারাটা। পাশাপাশি কলকাতার সৃজিত মুখার্জি আমাকে এ চরিত্র করার জন্য নিয়েছেন, যেখানে অনেক শিল্পী অভিনেতা ছিল অথবা পুরো ইন্ডিয়ায়ও অনেক অভিনেতা ছিল, যাদের এ চরিত্রে নিতে পারতেন। সেখানে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে এ চরিত্রে আমি নির্বাচিত হয়েছি।
সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করতেন...
সৃজিত মুখার্জি একজন আত্মবিশ্বাসী নির্মাতা। সবকিছু সম্পর্কেই তার ঠিকঠাক ধারণা আছে। ওনার গল্প লেখা, ডিরেকশন, টেকনিক্যাল সেন্স সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, উনি একজন কমপ্লিট ডিরেক্টর।










