গতকাল দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালায় টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (টেজাব) আয়োজিত চলচ্চিত্রবিষয়ক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ সংলাপে টেজাবের সভাপতি নাজমুল আলম রানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ জয়ের সঞ্চালনায় ‘চলচ্চিত্রের চাঁদমারি: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রবন্ধ পাঠ করেন চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু।

সংলাপে তারিক আনাম খান বলেন, ‘সিনেমা সত্য জানার প্রশস্ত একটি পথ। সে সিনেমা এখন ভয়াবহ দিকে রূপ নিচ্ছে। দেশের প্রেক্ষাপটে নানা প্রতিবন্ধকতা ভেবে আমরা যদি থেমে থাকি তাহলে আমাদেরই ক্ষতি। কারণ পুরো বিশ্বে সিনেমা কিন্তু থেমে নেই। বাংলাদেশে টিভি নাটক আগের তুলনায় অনেক কম। তাই বলে নাটক কি বন্ধ হয়ে গেছে? এখন ইউটিউবসহ ওটিটির নানা মাধ্যম এসেছে। সঙ্গে বাজেটও বেড়েছে। সেগুলোয় শিল্পী-কলাকুশলীরা কাজের সুযোগ পাচ্ছে। এটা সত্য, সংস্কৃতি তার পথ খুঁজে নেয়। কিন্তু আমাদের কাজের মান বাড়ছে না। চলচ্চিত্রে আমরা যদি কাজের মান বাড়াতে পারি, তাহলেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি ভারতীয় শিল্পীদের কথা বলি, তাহলে রাজনীকান্তের কথা বলতেই হয়। কীভাবে তিনি এ বয়সেও কাজ করে চলেছে। তাদের নিয়ে গল্প হচ্ছে। সেসব গল্প আবার সুপারহিট তকমা পাচ্ছে। এখনো তার সিনেমা দেখার জন্য ভোর ৪টায় মানুষ লাইন ধরে টিকিট কাটছে। কী আছে সে সিনেমায়? আমাদের এমন জায়গা তৈরি করতে হবে।’

সংলাপে অতিথি ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াত, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সিনেপ্লেক্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর খালেদ আহমেদ শাম্মি, রায়হান রাফী, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, আরিফুর রহমান (সদস্য, চলচ্চিত্রবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি, নির্মাতা ও প্রযোজক) তিতাস জিয়া (অভিনেতা, শিক্ষক, সদস্য- পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি), মো. মনিরুজ্জামান খান (নির্বাহী প্রকৌশলী, বিএফডিসি)।

দেশে সিনেমার মার্কেট আছে শত কোটি টাকার। যেসব সিনেমা হল চালু আছে, সেগুলোয় যদি টানা দুই মাস মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ভালো চলে, তবে শত কোটি টাকা ব্যবসা করা সম্ভব বলে বলে মনে করেন প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল।

তিনি বলেন, ‘ফিল্মে কিছু পলিসি আছে, এগুলো অতি দ্রুত চেঞ্জ করা উচিত। যদি চেঞ্জ করা যায়, তবে যেকোনো সিনেমার মোটামুটিভাবে রেভিনিউ তুলে আনা সম্ভব।’