বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সংস্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত হয়েছে "জাতীয় চলচ্চিত্র সম্মেলন ২০২৫।

‘সংস্কারে চলচ্চিত্র, পরিবর্তনে দেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফিল্ম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এ সম্মেলনে অংশ নেন ৫০০-এর বেশি চলচ্চিত্র শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নির্মাতা, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র কর্মী, অভিনয়শিল্পীসহ চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত সব অংশীজন।

সংগঠনটির সভাপতি সাদমান শিহির তিন মাসের মধ্যে চলচ্চিত্রের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় করার দাবি জানান। এ সম্মেলনে চলচ্চিত্রের সব অংশীজন একমত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকারকে চলচ্চিত্রবিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় অতিসত্বর গঠন করার দাবি জানান।

কেবল তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলচ্চিত্রের কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে দাপ্তরিক জটিলতা বাড়ছে বলে জানায় বক্তারা। চলচ্চিত্র মন্ত্রণালয় গঠনের পাশাপাশি "চলচ্চিত্র সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে অংশীজন প্রস্তাবিত সংস্কার, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

এছাড়া চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আরো বেশকিছু দাবি ও মতামত প্রকাশ করেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, ‘ঘটনাচক্রে উপদেষ্টা হলেও আমি আসলে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র সংস্কারে ও তাকে প্রাধান্য দিতে এখনো ব্যর্থ। যখন আমি শুধু একজন নির্মাতা ছিলাম, তখন আমিও সরকারকে দোষারোপ করতাম, তবে সরকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে রিয়েলাইজ করেছি যে প্রতিনিয়ত নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। উপদেষ্টা হওয়ার পরও আমার ধারণা নেই যে আমাদের দেশে কতজন ক্রু আছে। আমিও বিশ্বাস করি, চলচ্চিত্রের আলাদা মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত। স্টেকহোল্ডারদের একটি নীলনকশা তৈরি করা উচিত, যার তত্ত্বাবধানে একটি কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে।’