নানা কারণে যুক্তরাজ্যে কমেছে নারী গল্পকার ও চিত্রনাট্যকারদের অবদান। বিশেষত এ ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে। ২০১৬-২২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে লেখকদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা কমেছে দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে। সম্প্রতি ডেডলাইন এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় দিন যত পেরিয়েছে, যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের কাজ করার পরিমাণ কমেছে। গল্প লেখক ও চিত্রনাট্যকার কমার হার ১০ থেকে শুরু হয়ে ৩০ শতাংশে এসেছে। অন্যদিকে নারী পরিচালক ২৬ দশমিক ৯ থেকে নেমে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে।

বিষয়টি চিহ্নিত করেছে যুক্তরাজ্যের নানা সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান এবং জরিপ চালিয়েছে ডায়মন্ড। তারা দেখেছে চিত্রনাট্যকার ও গল্পকারদের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণ ২০২০-২১ সালেই সবচেয়ে কমেছে। এর মূল কারণ কভিড-১৯ অতিমারী। তবে এর আগেও পুরুষদের তুলনায় নারী গল্পকার ছিলেন কম। বিশেষত কমেডি কনটেন্টে তাদের বেশি দেখা যেত না। এমনকি অংশগ্রহণ কম ছিল শিশুতোষ কনটেন্টেও। তবে তাদের বেশি সুযোগ দেয়া হতো ড্রামায়। যুক্তরাজ্যে নির্মিত ড্রামার ৫৪ শতাংশের গল্প ও চিত্রনাট্য নারীদের লেখা। দীর্ঘদিন ধরে চলা টেলিভিশন ড্রামাগুলোয় নারী লেখকদের বেশি দেখা যায়। এর মধ্যে হ্যাপি ভ্যালি সিরিজের লেখিকা স্যালি ওয়েইনরাইট ও আই হেইট সুজির সহনির্মাতা লুসি প্রেবল স্বনামখ্যাত।

কিন্তু নারী লেখক কমে যাওয়ার কারণ কী? রাইটার্স গিল্ড অব গ্রেট ব্রিটেনের জেনারেল সেক্রেটারি এলি পিয়ারস এক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য, বর্ণবাদ ও অন্যান্য অসমতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করে যে আমরা ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা আনতে পারিনি। পাঁচ বছর ধরে আমরা আসলে বৈষম্যের বিষয়টি জেনেও তার কোনো সমাধানে আসতে পারিনি। নারীদের জন্য একরকম ফাঁপা স্বপ্ন তৈরি হয়েছে কিন্তু তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।’

বৈষম্যের বাস্তব চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় চিত্রনাট্যকারদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ, এশীয় ও সংখ্যালঘুর পরিমাণ ৬-৯ শতাংশ। লেখিকাদের মধ্যে এ অংশ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে উঠেছিল ২০২০-২১ সালে। তারপর আবার ধস। এর অন্যতম কারণ কভিড-১৯ চলাকালীন পারিশ্রমিক কমানো ও ছাঁটাই। এছাড়া পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় কম অর্থ পান নারীরা। এসব মিলিয়ে অনেকে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন।

সূত্র: ডেডলাইন