গত ২৭ আগস্ট ইতালির ভেনিসে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫। ১১ দিনের এ আসরে একত্র হয়েছেন হলিউডের হেভিওয়েট তারকা, ইউরোপের বিখ্যাত পরিচালক ও এশিয়ার স্বনামধন্য চলচ্চিত্রকাররা। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, আর্ট হাউজ ড্রামা, প্রামাণ্যচিত্রসহ নামজাদা স্টুডিওগুলোর লগ্নিকৃত চলচ্চিত্রের সমাহারে সাজানো হয়েছে এবারের উৎসব। এদিকে রোববার রাতে এ উৎসবে অনুষ্ঠিত হয় জিম জারমুশ পরিচালিত বহুল আলোচিত নতুন সিনেমা ‘ফাদার মাদার সিস্টার ব্রাদার’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার। প্রদর্শনী শেষে দর্শক দাঁড়িয়ে টানা ৫ মিনিট করতালি দিয়ে সিনেমাটিকে অভিবাদন জানান। হলজুড়ে প্রতিধ্বনিত সে করতালির আবহে অস্কারজয়ী তারকা কেট ব্লানচেট মুখভরা হাসি নিয়ে হাত নেড়ে দর্শককে সাড়া দেন—যা মুহূর্তেই পুরো উৎসবের অন্যতম আলোচিত দৃশ্যে পরিণত হয়।

সিনেমাটিতে কেট ব্লানচেট অভিনয় করেছেন দুই বোনের চরিত্রে, তার সঙ্গে আছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ভিকি ক্রিপস। একই সঙ্গে দুই ভিন্ন মানসিকতা ফুটিয়ে তোলার এ চ্যালেঞ্জকে নিপুণভাবে পর্দায় রূপ দিয়েছেন ব্লানচেট। সমালোচকদের মতে, তার এ দ্বৈত চরিত্রায়ণ ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈচিত্র্যময় অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্লানচেট ও ক্রিপস ছাড়াও এ সিনেমায় আছেন কিংবদন্তি শার্লট র‍্যামপ্লিং, হলিউড তারকা মায়িম বিয়ালিক ও প্রতিভাবান ইন্ড্যামুর। পুরুষ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তরুণ অভিনেতা লুকা সাব্বাত। তবে বাবা ও ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করা অ্যাডাম ড্রাইভার ও টম ওয়েটস ভেনিসে উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রদর্শনী শেষে পরিচালক জারমুশ প্রতিটি অভিনেত্রীকে হাত চুম্বন করে শুভেচ্ছা জানান, যা দর্শক ও অতিথিদের নজর কেড়ে নেয়।

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দূরত্ব, পারিবারিক সম্পর্কে মানসিক দ্বন্দ্ব ও ভাই-বোনের আবেগঘন টানাপড়েনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে কাহিনী। পারিবারিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা ও বাস্তবতাকে অনন্য ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক জারমুশ, যিনি নিজস্ব শৈল্পিক ভঙ্গির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

২০০৩ সালে কফি অ্যান্ড সিগারেটস প্রদর্শনের পর দীর্ঘ ২২ বছর পর আবার ভেনিসের লিডো দ্বীপে ফিরলেন জিম জারমুশ। যদিও কান চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি নিয়মিতই নিজের চলচ্চিত্র উপস্থাপন করেছেন। ২০১৯ সালে তার দ্য ডেড ডোন’ট ডাই কানের উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল। তাই ভেনিসে তার এ প্রত্যাবর্তন শুধু দর্শকের জন্য নয়, নির্মাতার ক্যারিয়ারেও এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিনেমাটি প্রযোজনায় ছিলেন অভিজ্ঞ প্রযোজক চার্লস গিলিবার্ট, জোশুয়া অ্যাস্ট্রাচান, কার্টার লোগান ও আতিলা সালিহ ইউসার। সহপ্রযোজক হিসেবে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের রিচার্ড বলগার ও কনর ব্যারি। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় চলচ্চিত্র সংস্থা স্ক্রিন আয়ারল্যান্ড।

সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনাও এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, বেনেলাক্স অঞ্চল, তুরস্ক ও ভারতে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেবে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম মুবি। বেনেলাক্স অঞ্চলে মুক্তির দায়িত্ব নিয়েছে সিনিআর্ট। ধারণা করা হচ্ছে, উৎসবে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার পর সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছেও বড় সাফল্য পাবে।

সূত্র: ভ্যারাইটি