মাত্র ৪০০ রুপির জন্য পুত্র ও স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়াতে পারছিলেন না। অথচ মৃত্যুকালে বলিউডের প্রযোজকদের কাছে আমজাদ খানের পাওনা ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। আমজাদ খানের পুত্র শাদাব খান এ তথ্য জানিয়েছেন। শোলের বিখ্যাত গব্বর সিং ব্যক্তিজীবনে মোটেও খল ছিলেন না বরং ছিলেন পরোপকারী। নানা সময়ে তার কাছে যারাই সাহায্যপ্রার্থী হয়ে এসেছে, কাউকে খালি হাতে ফেরাননি তিনি। এভাবেই জনে জনে তিনি যে ঋণ দিয়েছেন, তার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ রুপি। আমজাদ খানের মৃত্যুর পর আমজাদ-পত্নী শায়লা খানকে মধ্যপ্রাচ্যের এক গ্যাংস্টার এ টাকা তুলে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। শাদাব জানিয়েছেন তার মা সাধারণভাবে এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
আমজাদ খান ১৯৯২ সালের জুলাইয়ে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান। তার বয়স ছিল মাত্র ৫১ বছর। এ সময় তার ছিল তিন সন্তান—শাদাব, আহলাম ও শীমাব খান। ১৯৭৫ সালে শোলে দিয়ে বড় চরিত্রে আমজাদ খানের অভিষেক হয়। পরবর্তী বছরগুলোয় তিনি বিচিত্র চরিত্রে বেশকিছু সিনেমায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। কাজের পাশাপাশি এ সময় তার অনেক বন্ধু তৈরি হয়, যারা বিভিন্ন সময়ে আমজাদ খানের সহযোগিতা লাভ করেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাদাব বলেন, ‘মানুষকে সাহায্য করার এক সহজাত স্বভাব তার ছিল। টাকা নিয়ে তার মাথাব্যথা ছিল না। প্রযোজকরা বাড়িতে এসে তাদের দুঃখের কথা বলতেন। তারা ধারের বদলে নিজের বাড়ির চাবি তার হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত থাকতেন। বাবা সবই বুঝতেন কিন্তু নিজের টাকা নিয়ে না ভেবে তাদের দিয়ে দিতেন। টাকা তিনি ব্যাংকে না রেখে রাখতেন বন্ধুদের কাছে। তাই যখন তিনি মারা যান, প্রযোজকদের কাছে তার পাওনা ছিল অন্তত ১ কোটি ২৫ লাখ রুপি। বাবার মৃত্যুর পর তারা কেউ সে টাকা ফেরত দিতে আসেননি। অনেকেই তার কাছ থেকে ধার করেছেন কিন্তু ফেরত দিয়েছেন খুব কমই।’
এ কথার সূত্র ধরেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এক গ্যাংস্টারের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার চার মাস পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে একটা ফোন আসে। সে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইল। মাকে বলেছিল যে অসমর্থিত সূত্র থেকে জেনেছে যে ইন্ডাস্ট্রি থেকে তিনি টাকা পান। আমাকে তিন দিনের সময় দিলে আমি এ টাকা উদ্ধার করে দিতে পারি।’ আমজাদ খানের স্ত্রী শান্তভাবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শাদাব জানান তার মা দৃঢ়চেতা ছিলেন বলেই তা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো জানান তার জন্মের সময় হাসপাতালে ৪০০ রুপি বিল পরিশোধ করার অর্থ আমজাদ খানের কাছে ছিল না। প্রযোজক চেতন আনন্দ তাকে টাকাটা দিয়েছিলেন।
মাত্র বিশ বছরের ক্যারিয়ারে আমজাদ খান দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। গব্বর সিংয়ের চরিত্রটি আজও চর্চিত। সত্যজিৎ রায়ের শতরঞ্জ কি খিলাড়িতে নবাব ওয়াজিদ আলী শাহর চরিত্রেও আমজাদ খান প্রশংসিত। এছাড়া তার অভিনয়গুণের পরিচয় রয়েছে পরওয়ারিশ, জামানত, মিস্টার নটবরলাল, কুরবানি, ইয়ারানা সিনেমায়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস