মার্কিন সংগীতকার লেনার্ড বার্নস্টাইন। চল্লিশের দশকে তার ক্যারিয়ার শুরু। ক্যারিয়ারে পরিসর প্রায় ৫০ বছরের। ১৯৯০ সালে মারা যান তিনি। মৃত্যুর ৩৩ বছর পর তাকে রুপালি পর্দায় আনলেন অভিনেতা-নির্মাতা ব্র্যাডলি কুপার। এদিকে কুপার তার নিজের ‘‌এ স্টার ইজ বর্ন’ নির্মাণের পাঁচ বছর পর নিয়ে আসলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় নির্মাণ ‘‌মায়েস্ত্রো’। সিনেমাটি প্রিমিয়ার করা হলো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে। নেটফ্লিক্সের সিনেমাটি নিয়ে নির্মাণ ও পরবর্তী সময়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। তবে প্রদর্শনীর পর প্রশংসায় ভাসছেন কুপার। সিনেমাটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ৭ মিনিটের স্ট্যান্ডিং অভেশন পেয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, মায়েস্ত্রো দেখে অশ্রুসিক্ত হন বার্নস্টাইনের সন্তানরা।

শনিবার রাতে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। এ রাতে উপস্থিত থাকতে পারেননি ব্র্যাডলি কুপার ও কেরি মুলিগান। চলমান ধর্মঘটের কারণে তারা সিনেমার প্রচারণা ও প্রদর্শনীতে উপস্থিত হতে পারছেন না। সিনেমার প্রদর্শনী তাই হয়ে গেল নির্মাতা ও অভিনেতাদের ছাড়াই। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বার্নস্টাইনের তিন সন্তান—জেমি বার্নস্টাইন, আলেকজান্ডার বার্নস্টাইন ও নিনা মারিয়া ফেলিসিয়া বার্নস্টাইন। তারা উপস্থিত হয়ে একদিকে পেয়েছেন দর্শকের উষ্ণ ব্যবহার এবং সিনেমাটি দেখে তারা অভিভূত হন। পিতার জীবন এভাবে পর্দায় দেখবেন তারা আশা করেননি। সিনেমার শেষে টাইটেল ক্রেডিটের সময় তারা সিনেমার নির্মাতা ও অভিনেতাদের উদ্দেশে করতালির পাশাপাশি সংগীত নির্দেশকের মতো হাত নেড়ে সিনেমার প্রদর্শনী উদযাপন করেন।

সিনেমার বার্নস্টাইনের জীবনের বেশকিছু অংশ এসেছে। যেমন ওয়েস্ট সাইড স্টোরির (১৯৬১) সংগীত তৈরি করার সময়। দ্বিতীয়ত, ফেলিসিয়া মন্টেলারগির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টিও এসেছে। কুপার নিজেই এ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন। ভেনিসে সিনেমাটি ডেভিড ফিঞ্চারের ‘‌দ্য কিলার’ ও পাবলো ল্যারির ‘‌এল কদে’র সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। তবে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যাচ্ছে মায়েস্ত্রো এগিয়ে থাকবে।

সিনেমাটি নির্মাণের সময় বেশকিছু সমালোচনা হয়েছিল। বিশেষত বার্নস্টাইনের মতো চেহারা তৈরি করতে নাকে প্রসথেটিক ব্যবহার করেছিলেন। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন অস্কারজয়ী মেকআপ আর্টিস্ট কাজু হিরো। এ নিয়ে হিরো বলেন, ‘‌আমি এ রকম সমালোচনা আশা করিনি। আমি দুঃখিত যে আমার কাজের জন্য কারো অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। আমার ও ব্র্যাডলির চিন্তা ছিল লেনার্ডকে যতটা সম্ভব বাস্তব দেখানো। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ। আমরা চেষ্টা করেছি তার প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে। সেজন্য আমাদের যা করার দরকার আমরা করেছি।’ কেবল মেকআপ নয়, বেশকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়েও গেছে এ সিনেমার ক্রুরা।

সিনেমা নিয়ে অনেকটাই খেটেছেন কুপার। এমন একটি সিনেমা নেটফ্লিক্সের প্রযোজনায় আসার বিষয়টি আগ্রহোদ্দীপক। এর মধ্য দিয়ে প্রযোজনায় নতুন ধারা এসেছে। তবে নেটফ্লিক্সের প্রযোজনার কারণেও সিনেমায় বার্নস্টাইনের গল্পের বাস্তবতা ও উপস্থাপন নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। কিন্তু ৭ মিনিটের স্ট্যান্ডিং অভেশন ও লেনার সন্তানদের প্রতিক্রিয়ায় তা হারিয়ে গেল।

সিনেমাটি নিয়ে কুপার নতুন কিছু তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, বার্নস্টাইনকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল স্টিভেন স্পিলবার্গের। আর সে সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল কুপারের। কিন্তু সে সময় ‘‌এ স্টার ইজ বর্ন’ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সিনেমাটি করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‌আমি তাকে (স্পিলবার্গকে) বলেছিলাম, সিনেমাটি আমি লিখতে ও পরিচালনা করতে চাই। সে আপত্তি করেনি।’ তাই নির্মাতা না হয়ে এ সিনেমার একজন প্রযোজক স্পিলবার্গ।

সূত্র: ভ্যারাইটি