কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদের সন্তান তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূনের নির্মিতব্য প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুভিং বাংলাদেশ’। সিনেমাটি নির্মাণের জন্য তাইপে ফিল্ম ফান্ড থেকে ২৫ লাখ তাইওয়ান ডলার অনুদান পেয়েছে, বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ৭৬ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে টিফকম নির্বাচিত প্রকল্পটি তার বাজেটের একটা অংশ উঠে আসছে। বাকি অংশটুকু টোকিও থেকে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভ্যারাইটি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি জানায়, চলচ্চিত্রটির নির্মাণ বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা।
টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সিনেমার বাজার সম্প্রসারণ। পাশাপাশি চলচ্চিত্র তৈরির প্রক্রিয়া এবং বিপণনে জাপানি ও বিদেশের নির্মাতাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া। মূল চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি ভিন্ন এ আয়োজন প্রতি বছরই চলে আসছে। সংক্ষেপে এটি পরিচিত টিফকম নামে।
টোকিওর আগে ‘মুভিং বাংলাদেশ’
ভারতের ফিল্ম বাজারসহ প্রযোজনা বাজারে অংশগ্রহণ করেছিল এবং সেখান থেকে কান ফিল্ম মার্কেটে পিচ করার জন্য সাতটি শীর্ষ প্রকল্পের মধ্যে একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। এটি লোকার্নোর ওপেন ডোরস উদ্যোগেরও অংশ ছিল এবং লস অ্যাঞ্জলেসের ফিল্ম ইনডিপেনডেন্ট প্রযোজনা ল্যাবের জন্যও নির্বাচিত হয়েছে।
কনটেন্ট মার্কেট এ আয়োজনের একটি মূল অংশ। এখানে বিভিন্ন দেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও চলচ্চিত্র নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যেমন—ছবির প্রযোজক, বিক্রয় এজেন্ট, বিতরণ ও বিনিয়োগ কোম্পানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আয়োজনে আসা অতিথিরা ছবির বাণিজ্যিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। চলচ্চিত্রের নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
নুহাশ হুমায়ূন বলেন, ‘আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি মুভিং বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপনের যোগ্য করে তোলার জন্য। এটি খুব আশ্চর্যজনক যে বাংলাদেশে এবং এর বাইরেও অনেক লোক এ প্রকল্পে আস্থা রাখে।’
চলচ্চিত্রটির প্রযোজক বিজন ইমতিয়াজ বলেন, ‘স্টার্টআপের ঘটনাটি একটি বিশ্ব সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশে তরুণরা ব্যবসা শুরু করেছে। এ নতুন স্বাভাবিক সময়ে তাদের জীবন পরিবর্তন করেছে। মুভিং বাংলাদেশ হলো রাইড শেয়ারিং একটি অ্যাপের দুর্দান্ত স্টার্টআপের সাফল্যের গল্প। এটি অবশ্যই বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে এশিয়ার দর্শকদের সঙ্গে অনুরণিত হবে।’
একদল তরুণ ঢাকার তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে কীভাবে নিজেরাই একটি উপায় বের করে, তৈরি করে অ্যাপ, সে গল্পই উঠে আসবে মুভিং বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে। ২০২২ সালে শুরু হবে চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ণ।
সূত্র: ভ্যারাইটি ডটকম










