নব্বইয়ের দশকে যখন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি চলচ্চিত্রে এলেন, তখন সবই অন্য রকম ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে অনেক। ক্যারিয়ার শুরুর দিনগুলোয় পরিস্থিতি এখনকার মতো হলে অভিনয়ে আসতেন না বলে জানালেন এ অস্কারজয়ী অভিনেত্রী। সম্প্রতি ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ হলিউড তারকা বলেন, ‘‌ক্যারিয়ার শুরু হলে আমি অভিনয় জগতে পা রাখতাম না। যখন আমি ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন জীবনকে লোকসম্মুখে প্রকাশ করার প্রবণতাটা এত বেশি ছিল না। ব্যক্তিগত সবকিছু এত করে জাহিরের প্রশ্নও উঠত না।’

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বাবা জন ভইট ও মা মারশেলিন বার্ট্রান্ড। দুজনই হলিউডের জনপ্রিয় তারকা। পরিবারের সুবাদেই জুলি বেড়ে উঠেছেন হলিউডের বর্ণিল জগতে। কিন্তু সে জীবন তার কাছে মোটেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘‌আমি কখনই একে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করিনি। আমি বেড়ে উঠেছি অদূরেই। পৃথিবীর অন্য সব জায়গার তুলনায় হলিউড মোটেই স্বাস্থ্যকর জায়গা নয়। আর একটা সত্যিকার জায়গা সবাই খুঁজতে চায়।’ 

গত সেপ্টেম্বরে ভোগ ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জোলি জানিয়েছিলেন, ‌২০১৬ সালের পর থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে তিনি তুলনামূলক কম সিনেমা নির্বাচন করছেন কাজের জন্য। সময় দিচ্ছেন নিজেকে। তিনি বলেন, ‘‌আমার মনে হয় মানুষ হিসেবে আমি অবস্থান্তর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান সময়গুলোয় অবসাদ নিয়ে আছি। আমার মনে হয়, এক দশক ধরে আমি ঠিক আমি হিসেবে জীবন যাপন করিনি। অন্যভাবে বলতে গেলে, আমি যা কিছুর মধ্য দিয়ে গেছি, তার মধ্য দিয়ে যেতে চাইনি। অনেক কিছুই করার ছিল। আমি এখনো নিজেকে খুঁজছি।’ 

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘‌গার্ল, ইনটেরাপটেড’ সিনেমাটি অস্কার এনে দেয় জোলিকে। তার পর থেকেই বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ায় আকাশচুম্বী খ্যাতি। এমনকি হতাশা থেকে আত্মহননের মতো চিন্তাও মাথায় ঘুরেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারজুড়ে প্রায়ই হয়ে থেকেছেন খবরের শিরোনাম। ব্র্যাড পিটের সঙ্গে ডিভোর্সের পর সে আলোচনা যেন তুঙ্গে ওঠে। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মেলফিসেন্ট: মিসট্রেস অব ইভিল’ করার সময় তিনি দাবি করেছিলেন তার কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার কথা। মাত্রাতিরিক্ত চাপ প্রভাব ফেলেছে তার শরীরে ও স্বাস্থ্যে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘‌ডিভোর্সের পর আমি জীবনযাপন ও ভ্রমণের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি।’ 

সূত্র: ভোগ