কখনো কৃশ, কখনো রোহিত। আবার ধুমের আরিয়ান। বহু চরিত্রেই হৃতিক রোশনকে পাওয়া গেছে। সুদর্শন ও শরীরী সৌন্দর্যের অধিকারী এ অভিনেতা বহু আগেই পরিণত হয়েছেন সুপারস্টারে। এই কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত বিক্রম ভেদা। দক্ষিণী সিনেমার রিমেক যখন বলিউডে ব্যবসায়িক সাফল্য পাচ্ছে না, তখনো বেশ আলোচনা তুলেছিল সিনেমাটি। প্রতিনায়ক চরিত্রে তাকে দেখতে দর্শক পছন্দই করে। কিন্তু প্রতিনায়ক হওয়ার আগে তিনি ছিলেন নায়ক এবং বহু আগেই সুপারস্টার তকমা পেয়ে গেছেন। তারকাখ্যাতি কখনো কখনো ব্যক্তি ও তার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করেন হৃতিক। ‘কাহো না... পেয়ার হ্যায়’ সিনেমা দিয়ে তারকাখ্যাতি পাওয়া হৃতিক বহু আগেই এ কথা বুঝতে পেরেছেন।
গ্যালাটা প্লাসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন হৃতিক। তিনি বলেন, ‘কেউ যখন আমাকে একজন অভিনেতা, ভালো অভিনেতা, আমার অভিনয়ের প্রশংসা কিংবা স্রেফ একজন অভিনেতা হিসেবে গ্রহণ করে তা আমাকে তৃপ্তি দেয়। আমি স্বস্তিবোধ করি। সবার ক্ষেত্রে অবশ্য এ রকম হয় না। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হলো আমি একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে দেখতেই পছন্দ করি। তারকার এক ধরনের দায়িত্ব থাকে। এজন্য আমি অবশ্যই কৃতজ্ঞ। অনেক দিন ধরেই আমি এ ইচ্ছা লালন করেছি।’
হৃতিক মনে করেন তারকা কেউ চাইলেই হতে পারে না। দর্শক তাকে এ তকমা দেয়। এ কারণেই বিষয়টি দায়িত্বের। তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমাকে এটা দেয়া হয়েছে। তারকাখ্যাতি একটি দামি উপহার, কিন্তু কখনো কখনো বোঝা হয়ে ওঠে। এটা টিকিয়ে রাখতে আমাকে প্রচুর পরিশ্রমের পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। আমি কেবল টিকে থাকতে চাই না। একে এগিয়ে নিতে চাই। তবে কাজ ও খ্যাতি একটি যাত্রার মতো। তবে একজন অভিনেতা হিসেবে আমি স্বস্তিতে থাকি, যদি অনেক বেশি আশা না করা হয়।’
হৃতিক রোশনের বহু সিনেমা সুপারহিট। এর মধ্যে কোনো কোনো সিনেমায় তার অভিনয় সমালোচকরাও প্রশংসা করেছেন। তবে তাকে নিয়ে একটি বিতর্ক আছে যে তিনি রাকেশ রোশনের সিনেমায় যতটা সফলতা পান অন্য পরিচালকের সঙ্গে তা পান না। কোই মিল গ্যায়া বা কৃশ সে উদাহরণ। কিন্তু ধুম দিয়েই সে সমালোচনার জবাব এরই মধ্যে দিয়েছেন হৃতিক।
হৃতিক বেশকিছু সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ব্যস্ত সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় ফাইটার নিয়ে। পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারেও। তিনি জানান, তার অন্যতম প্রিয় চরিত্র কোই মিল গ্যায়ার রোহিত। তার ছেলেরাও চরিত্রটি পছন্দ করে। হৃতিক বলেন, ‘আমি ভাবতাম আমার এ চরিত্র বহুদিন টিকে থাকবে। রেহান ও রিদান এ সিনেমা দেখার সময় তাদের চোখে আমি আনন্দ দেখেছি। সেখান থেকেই আমার জীবনের সংজ্ঞা বদলে গেছে।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










