ইন্ডাস্ট্রিতে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছিল ‘ডুন’। ফ্র্যাংক হারবার্টের উপন্যাস থেকে সিনেমা নির্মাণ হতে পারে, ভাবেননি কেউ। ১৯৮৪ সালে ডেভিড লিঞ্চ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সিনেমাটি উপন্যাসের মান রাখতে পারেনি। তবে দেনি ভিলেনোভ অবাক করেছিলেন সবাইকে। ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ডুন পার্ট ওয়ান’ তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এ বছর মুক্তি পেয়েছে সিনেমার দ্বিতীয় পর্ব। এর মিউজিক স্কোর করেছেন বিখ্যাত সংগীতকার হ্যান্স জিমার। কিন্তু অস্কারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না ডুনের স্কোর।
হ্যান্স জিমার নিজেই কিংবদন্তি। সংগীত দুনিয়ায় তার মতো সুরকার এখন আর বেশি কেউ নেই। সেই সঙ্গে ডুনের স্কোরও পেয়েছে দর্শক, শ্রোতা ও সমালোচকদের প্রশংসা। এর পরও স্কোরের জন্য অস্কারে থাকতে পারছে না ডুনের সংগীত। কেননা একাডেমির ‘প্রি-এক্সিসটিং মিউজিক’-এর ক্ষেত্রে ডুন এর সীমা ছাড়িয়েছে। তারা আর এ বিভাগে কোনো স্কোর বা সংগীত নিতে পারছে না।

একাডেমির নিয়ম অনুসারে, সিকুয়াল বা নতুন করে নির্মিত কোনো সিনেমার ক্ষেত্রে আগেই সুর করা হয়েছে এমন সংগীত ২০ শতাংশের বেশি নতুন সিনেমায় থাকলে তা অস্কারের জন্য মনোনীত হবে না। একই ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সিনেমায় পুরনো সিনেমার সুর ও সংগীতের এ নিয়মে খাটছে না ‘ডুন টু’র সংগীত। জিমার ২০২১ সালের কাজ থেকে ২০ শতাংশের বেশিই রেখেছেন নতুন সিনেমায়।
এতে জিমার বা ডুনের খুব বেশি ক্ষতি হচ্ছে না। কেননা হ্যান্স জিমারের এ সংগীত এরই মধ্যে বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব, ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ড প্রভৃতিতে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া স্টিভ ম্যাকুইনের যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘ব্লিটজ’-এর সংগীতও বিবেচনায় থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে জিমার ও ম্যাকুইন একসঙ্গে ‘উইডোজ’ ও ‘টুয়েলভ ইয়ার্স আ স্লেভ’ সিনেমায় কাজ করেছিলেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি নিয়ে জিমারের নিজস্ব মত আছে। তিনি পুরস্কারের কথা কখনো ভাবেন না। এছাড়া ডুনের সংগীত করা নিয়েও তার একটি পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘গল্প বলার ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য থাকে ন্যারেটিভকে প্রকাশা করা এবং তার সঙ্গে দর্শককে যুক্ত করা। ডুন টুর ক্ষেত্রে আমরা প্রথমে বইয়ের অর্ধেকটা নিয়ে কাজ করেছিলাম। পরে বাকিটা। সেক্ষেত্রে থিম প্রকাশে যা করার প্রয়োজন, সে অনুসারেই কাজ করেছি।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










