জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমি। দীর্ঘদিন ধরে নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। দর্শকের কাছেও সমানভাবে পরিচিত প্রাণবন্ত অভিনয়শিল্পী হিসেবে। তবে এ অবস্থানে পৌঁছানোর পথটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। জীবনের একটি ঘটনার কারণে তাকে যেতে হয়েছিল তিক্ত এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।

২০১৭ সালের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন হিমি। শুরু থেকেই প্রতিযোগিতায় তার পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। ফাইনালের দিন যখন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়, উচ্চারিত হলো তার নাম। আনন্দে ভাসছিলেন তিনি। মাথায় পরানো হলো বিজয়ের মুকুট। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আসে পাল্টা ঘোষণা—আসলে বিজয়ী তিনি নন, তার নামের সঙ্গে মিল আছে অন্য একজন প্রতিযোগী আসল বিজয়ী। হঠাৎ করেই মাথা থেকে মুকুট সরিয়ে নেয়ার সে মুহূর্ত ছিল হিমির জীবনের সবচেয়ে অপমানজনক অভিজ্ঞতা। নিজেকে তুচ্ছ আর অসহায় মনে হয়েছিল তার।

তবে সে ধাক্কায় হিমি ভেঙে পড়েননি। বরং বুঝেছিলেন, জীবনে ধৈর্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতা শেষে তাকে দ্বিতীয় রানার আপ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। অভিনয়কেই জীবনের পথ বেছে নিলেন, নতুন করে নিজেকে তৈরি করলেন। নিয়মিত নাটক ও অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন দর্শকের প্রিয় মুখ।

আজ হিমি মনে করেন, দর্শকের ভালোবাসাই তার আসল অর্জন। এমনকি কানাডায় বেড়াতে গিয়েও তিনি উপলব্ধি করেছেন, বাংলাদেশের নাটক যারা নিয়মিত দেখে, তারা তাকে চেনে, কাছে এসে কথা বলতে চায়, ছবি তুলতে চায়। এ ভালোবাসাই প্রমাণ করে তার পরিশ্রম ও সংগ্রাম বৃথা যায়নি। এক অপমানজনক ঘটনার ছায়া পেরিয়ে তিনি আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাফল্যের আলোয়।