বয়সের সঙ্গে নিজের কাজের গতি কমাতে নারাজ থ্রি ইডিয়টসের ভাইরাসখ্যাত অভিনেতা বোমান ইরানি। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে এমন কথা বলেছেন ৬২ বছর বয়সী এ অভিনেতা। জীবনে নতুন কিছু শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বোমান বলেন, ‘এ নিয়ম কে করেছে? আমি ৪৪ বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু করেছি, লেখালেখি শুরু করি ৫৫ বছরে এবং ৬২ বছর বয়সে পরিচালক হয়েছি।’
বোমান ইরানি একসময় ফটোগ্রাফার ছিলেন, সে রকম এক সময়ে তিনি অভিনয়ের প্রস্তাব পান। শুরুতে বেশকিছু টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। ২০০১ সালে এভরিবডি সেজ আই অ্যাম ফাইন দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। ডরনা মানা হ্যায় সিনেমায় সবার নজর কেড়েছিলেন বোমান। মুন্না ভাই এমবিবিএস, ম্যা হুঁ না, লক্ষ্য, বীর-জারা, থ্রি ইডিয়টসের মতো সিনেমায় কাজ করেছেন এ বলিউড তারকা।
সম্প্রতি এইটিথ্রি সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে। এ অভিনেতা বলেছেন, ‘জনপ্রিয় কোনো চরিত্রেই আমি সীমাবদ্ধ থাকিনি। ঋষি কাপুর আমাকে বলেছিলেন, আপনার সেরা কাজগুলো নিয়ে কখনো ভাববেন না এবং ব্যর্থতাগুলোকে আপনার হূদয়ে স্থান দেবেন না। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে হয় এবং আমি সেটাই চেষ্টা করি।’
বোমান বড় পর্দায় নিজের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘পরিচালক আপনাকে যে চরিত্রে দিচ্ছে সেটা বুঝে কাজ করতে হবে। আমি যেহেতু মঞ্চ থেকে এসেছি, তাই কয়েক মাস আগে থেকেই আমি আমার অভিনীত চরিত্র নিয়ে কাজ শুরু করি। আমি সেটে গিয়ে আগে পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করি।’
থ্রি ইডিয়টস সিনেমায় দর্শক বোমানকে দেখেছে ডিন বীরু সহস্ত্রাবুদ্ধের চরিত্রে, যিনি কলেজে ভাইরাস নামে পরিচিত। এ নিয়ে বোমান বলেন, ‘আসলে চরিত্রটির সঙ্গে কী যায় সেটা বুঝতে হবে। থ্রি ইডিয়টসের চরিত্রটি নিয়ে আমি পরিচালক রাজু হিরানিকে বলেছিলাম, এ মানুষটি দারুণ প্রতিভাবান ব্যক্তি, যিনি তার সব ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেননি। তার একজন মুক্তচিন্তার মানুষ হওয়া উচিত ছিল, আর অনেক ক্ষেত্রে সে রাঞ্চোরের থেকেও অনেক বেশি দক্ষ। কিন্তু এ ডিন আটকে আছেন কিছু সংখ্যা ও একাডেমির জগতে। তাই আমি চেয়েছিলাম এসব বিষয় চরিত্রটিতে ফুটিয়ে তুলতে।’
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










