ঢাকার মঞ্চে আবারো আসছে ‘মার্ক্স ইন সোহো’। নাট্য সংগঠন বটতলা ও যাত্রিকের নন্দিত যৌথ প্রযোজনা এটি। এবার তিনদিন নাটকের টানা পাঁচটি প্রদর্শনী হবে। ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় একটি এবং ২৯ ও ৩০ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে নাটকটি।
এটি মূলত রচনা করেছেন আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও তাত্ত্বিক হাওয়ার্ড জিন। বাংলায় এ নাটক অনুবাদ করেছেন জাভেদ হুসেন। নির্দেশনা নায়লা আজাদের। ২০২১ সালের অক্টোবরে নাটকটি প্রথম বাংলাদেশের মঞ্চে আসে।
নাটকের গল্পটা আগ্রহজাগানিয়া। মৃত্যুর প্রায় ১০০ বছর পর কার্ল মার্ক্স কি সত্যি সোহোয় বা পৃথিবীতে ফিরেছেন? ফেরার প্রয়োজনীয়তাও কি আছে? এই যে পৃথিবীতে বাস করছি আমরা, যেখানে নানা বৈষম্য বিদ্যমান; শ্রমিক তার ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত, তার জীবন যেখানে মূল্যহীন; যেখানে মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ভেতরে ভেতরে চিৎকার, রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা হঠাৎ হঠাৎ বাইরে বেরিয়ে আসা দু-একটি চিৎকারেরও টুটি চেপে ধরা; এমন অস্থির সময়ে মানুষের মুক্তি কোথায়? গোটা বিশ্ব যেখানে পুঁজিবাদের দাস, সেখানে কার্ল মার্ক্স কি ফিরছেন এসব থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে, নাকি তার নামে চালু বদনামগুলো পরিষ্কার করতে? এসবই জানা যাবে নাটকের নানা স্তরে, বোঝা যাবে শুধু একজন দার্শনিক নয়, এক ব্যক্তি কার্ল মার্ক্সকেও।
দুনিয়ার অন্যতম জরুরি দার্শনিক কার্ল মার্ক্স, যিনি ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে আজও মানুষের সমাজের ইতিহাস ও রাজনীতিকে নানাভাবে প্রভাবিত করে চলেছেন। তাকে নিয়ে নাটক মার্ক্স ইন সোহো বা সোহোয় মার্ক্স! হাওয়ার্ড জিন তার সোহোয় মার্ক্স নাটকে দুনিয়া কাঁপানো চিন্তক মানুষটির দৈনন্দিন প্রেম বা খেদের ভেতর দিয়ে সত্যিকারের একজন মানবিক স্বাপ্নিক দ্রষ্টার ছবি এঁকেছেন। এর পেছনে জিনের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু মার্ক্স নন, বরং মার্ক্সের চিন্তা বা বিশ্লেষণ। দেড়শ বছর পেরিয়ে এসেও কী অসামান্য প্রাসঙ্গিক ও জরুরি সেসব চিন্তা, সেটা দেখানোই জিনের উদ্দেশ্য। নাটকটি নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বটতলার সঙ্গে যুক্ত হয় যাত্রিক। বাংলা ভাষায় নাটকটি মঞ্চায়নের জন্য Howard Zinn Revocable Trust বটতলা ও যাত্রিককে আনুষ্ঠানিভাবে অনুমতি প্রদান করেছে। বটতলা ও যাত্রিকের এ যৌথতা জিনের দেখা মানবিক মার্ক্সকে এবং তার অসামান্য বিস্ফোরক বিপ্লবী চিন্তাকে আরো বেশি দর্শকের কাছে নিয়ে যাবে এটুকুই প্রত্যাশা।










