বলিউডের প্রবীণ ও বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র কৃষ্ণ দেওল কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর ছাড়া পেয়েছেন। এখন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার স্ত্রী হেমা মালিনী ভারতীয় গণমাধ্যমকে ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়েছেন।

পরিবার জানিয়েছে, জনপ্রিয় এ অভিনেতা এখন বাড়িতে চিকিৎসা ও আরাম করবেন। এক সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্রর সন্তানরা ‘ঘুমহীন’, তবে তারা স্বস্তি পেয়েছেন যে তাদের বাবা হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেছেন।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে হেমা মালিনী বলেন, ‘আমার জন্য এটি সহজ সময় ছিল না। ধর্মাজির স্বাস্থ্য আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তার সন্তানরা ঘুমহীন ও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু আমি দুর্বল হতে পারি না, আমার অনেক দায়িত্ব। আমরা স্বস্তি পেয়েছি যে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়েছেন। তার এখন প্রিয় মানুষদের সঙ্গে থাকা দরকার। বাকি সব সৃষ্টিকর্তার হাতে। আমাদের জন্য সবাই প্রার্থনা করবেন।’

এর আগে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের ডাক্তার প্রতিত সামদানি পিটিআইকে জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সাড়ে ৭টায় ধর্মেন্দ্রকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসা নেবেন।

কয়েক দিন আগে ৯০ বছর বয়সী অভিনেতা প্রেম চোপড়াও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের চেয়ে তিনি ধর্মেন্দ্রর জন্যই বেশি চিন্তিত ছিলেন। প্রেম চোপড়ার জামাই বিকাশ ভল্লা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘প্রেম চোপড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছিলেন এবং পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছিল নিয়মিত পরীক্ষা এবং হালকা সংক্রমণের কারণে। তবে ধর্মেন্দ্রজির স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।’

ধর্মেন্দ্রর সহশিল্পী ও দীর্ঘদিনের বন্ধু বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন নিজেই গাড়ি চালিয়ে ধর্মেন্দ্রর বাড়িতে যান। বন্ধু ধর্মেন্দ্রর খোঁজখবর নেন। অমিতাভ ও ধর্মেন্দ্র ‘চুপকে চুপকে’ (১৯৭৫) এবং ‘রাম বালরাম’ (১৯৮০) সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন।

উল্লেখ্য, ধর্মেন্দ্রকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সুদর্শন এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র তারকাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যারিয়ারে তিনি ৩০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে তিনি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণে ভূষিত হন।

সূত্র ও ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস