তরুণ নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম তার প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘শাটিকাপ’ দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছিলেন। রাজশাহীর ভাষায় নতুন মুখদের সঙ্গে করে থ্রিলার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। আর এবার তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘সিনপাট’ দিয়ে ফের আলোচনায় এ নির্মাতা। কাজে নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। সিনপাট ও নিজের কাজের নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তাওকীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
শাটিকাপ
কি সিনপাটের জন্য চাপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল?
এমন নয়। আমরা কাজটা খুব উপভোগ করেছি, একদম শেষ পর্যন্ত। প্রত্যেকটা কাজ একটা জার্নি। যখন আমরা সিনপাট বানাই, তখন অনেক কিছু নিয়ে বিস্মিত হয়েছি, যা আমার কাজটা কেমন হবে তা আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে। সিনপাট একটু অন্য রকম, কারণ রিয়েল লাইফ কাস্ট সোহেল ভাইয়ের জীবনের গল্প লেখা, তারপর ওই চরিত্রটা ফিকশনে নিয়ে আসা। আবার রিয়েল ইনসিডেন্টগুলোকে ফিকশনে দেখানো, সব মিলিয়ে সিনপাটের পুরো জার্নিটা দারুণ ছিল, তাই বাড়তি চাপ ছিল না।
গল্পে আঞ্চলিকতার বিষয়টা কীভাবে এল?
আমাদের দুটো কাজ এসেছে, একটা শাটিকাপ আর অন্যটা সিনপাট। আমরা স্থানীয় গল্প বলেছি। পর্দায় যে মাটির গল্প বলছি, তার কাছাকাছি থেকে কাজ করতে গিয়ে রাজশাহীর গল্পটা শাটিকাপে এসেছে আর সিনপাটে রাজশাহী ও পাবনা উঠে এসেছে। আঞ্চলিকতা বিষয়টি এসেছে কাজের প্রয়োজনেই। আমরা যে গল্পটা বলেছি, তার প্রকৃত অর্থ না দেখিয়ে যদি বলতাম, তাহলে গল্পের যে শিকড় সেটা থাকত না। তবে এমন নয় যে আমরা কেবল অঞ্চলভিত্তিক কাজ করব।
দুই বছর বিরতি নিয়ে সিনপাট নির্মাণ করার কারণ কী ছিল?
আসলে বিরতি নিইনি, বরং আমরা একটু ধীরে কাজ করি। যেটা অন্যরা দুদিনে করতে পারে, সেটা করতে আমাদের ১২ দিন লেগে যায়। আর আমাদের প্রত্যেকে তো প্রফেশনাল নয়, তাই দেখে বুঝে কাজটা করতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক জায়গায়ই আমাদের একটু বেশি সময় লেগে গেছে। আমরা বসে না থেকে পুরো সময়টা কাজে ইনভেস্ট করেছি। আসলে নিজেরা কাজ করতে চেয়েছি, তাই সময় বেশি লেগে গেছে।
স্থানীয়দের দিয়ে কাজ করার কারণটা কী?
আমরা ইনডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকিং হাউজ। আর ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম মেকাররা নিজেরাই পুরো কাজ করার চেষ্টা করে, সেটা সেটে ঝাড়ু দেয়া থেকে টেকনিক্যাল কাজ যাই হোক। আমরা যেহেতু এভাবে কাজ করেছি, তাই নিজেদের পুরো কাজটা করতে হয়েছে। তবে আমাদের পোস্ট প্রডাকশন পুরোটাই প্রফেশনালরা করেছে। আমরা যে মাটির গল্প বলেছি, সেখানে চাইছিলাম এমন মানুষ দিতে, যারা শুরু থেকেই কাজের সঙ্গে থাকতে পারবে। আমাদের ক্ষেত্রে গল্পটা ডেভেলপ করার সময় টেকনিশিয়ান আর প্রডাকশন এ জার্নির মধ্য দিয়ে যায়। প্রফেশনাল কাজের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কাজের সময় টেকনিক্যাল লোকদের হায়ার করা হয়। এতে কারোর কিন্তু প্রজেক্টের শিকড়ের সঙ্গে সেভাবে কানেকশন গড়ে ওঠে না। আমাদের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। মূলত গল্পের জন্য আমরা এভাবে কাজ করি। আমি মনে করি, গল্পের যে অনুভূতি সেটা নিজেদের মধ্যে যদি না কাজ করে, তা পর্দায় সেভাবে উঠে আসবে না।
আগামীতে আপনার নির্মাণে চেনা মুখদের দেখা যাবে?
অবশ্যই থাকবে। আসলে যে জায়গায় যে মানুষ লাগবে, তিনি ক্যামেরার সামনে বা পেছনে স্বাভাবিকভাবেই থাকবেন। এটা আসলে প্রজেক্ট টু প্রজেক্ট নির্ভর করবে। কোন প্রজেক্টে কেমন এক্সপার্টস দরকার, সেটা ধরেই আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।
প্রফেশনালদের সঙ্গে কাজ...
এভাবে বলা মুশকিল। তবে শাটিকাপ ও সিনপাটের পর আমাদের অনেক বন্ধু হয়েছে এবং অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আসলে এ বন্ধুত্বই একটা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। যেমন একটা বিষয় আমরা কম পারি, তবে আমাদের পরিচিত একজন সেটা ভালো পারে। আবার দেখা গেল যে গল্পের একটা চরিত্রের সঙ্গে একজন তারকা ভালো যাচ্ছেন। শাটিকাপ বা সিনপাটের আগে হলে হয়তো তিনি সাহসটা করতেন না আমাদের সঙ্গে কাজ করার। তবে এখন দেখা যাচ্ছে ওই মানুষটাই আমাদের বন্ধু। আসলে কাজের মাধ্যমে তো যোগাযোগ বাড়তে থাকে, আমাদের ক্ষেত্রেও সেটাই হচ্ছে।
ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম মেকারদের কাজের সুযোগ কী আমাদের দেশে বাড়ছে?
কাজের সুযোগ তো অবশ্যই বাড়ছে। এখন যোগাযোগ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমরা ঢাকার বেশ দূরে একটা বিভাগীয় শহর থেকে কাজ করছি। আমার কাছে মনে হয়, আরো দূরে গিয়ে কাজ করাও এখন সমস্যা নয়, কারণ বর্তমান সময়ে যেকোনো জায়গা থেকেই কানেক্ট থাকা যায়। আমি যদি ভাবি যে আমি আফ্রিকার জঙ্গলে গিয়ে কাজ করব, সেটাও কিন্তু সম্ভব। আর কাজ দেখানোর কথা বলতে গেলে বলব যে এখন আপনি যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই কাজটা দেখাতে পারবেন। এখন কাজ করার সুযোগের অভাব নেই, আমরা কীভাবে তা ব্যবহার করব সেটা বুঝতে হবে।










