বিশ্বের ২৬টি দেশ ঘুরে ইউনেস্কো সিফেজ অ্যাওয়ার্ড, জাপানের গোল্ডেন শিকা অ্যাওয়ার্ডসহ আটটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে ভারতীয় নির্মাতা প্রসূন চ্যাটার্জির প্রথম সিনেমা ‘‌দোস্তজী’। সিনেমা নির্মাণ, পরবর্তী পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের নির্মাতাদের নিয়ে তার ভাবনার কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দুই শিশুর মধ্যকার বন্ধুত্ব ও বিচ্ছেদের গল্প ‘দোস্তজী’। এমন একটা গল্প বেছে নেয়ার কারণ কী?

দোস্তজী সিনেমায় দুই শিশুর বন্ধুত্ব, শৈশব ও রাজনৈতিক কিছু বিষয় ওঠে এসেছে। এ সিনেমার গল্প এমন কেন, এটা বলা অনেক কঠিন হলেও এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আমি নিজে ওপেন বর্ডার এলাকায় বহু বছর ছিলাম। আর আমার চিত্রনাট্যও ওখানে লেখা। গল্পের নিয়মেই এটা আমার মাথায় এসেছে। 

সিনেমাটি সম্পর্কে অমিতাভ বচ্চনের প্রশংসা পেয়ে কেমন লেগেছিল?

এর খুব মজার ঘটনা আছে। আমাদের এ সিনেমার নিবেদক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি কোনো রকম ব্যবসায়িক স্বার্থ ছাড়া দোস্তজীর পাশে এসে দাঁড়ান। সিনেমা মুক্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। প্রসেনজিৎ দাদাই দোস্তজীর সঙ্গে অমিতাভ বচ্চনকে সংযুক্ত করেন। এ সিনেমায় যে দুটো বাচ্চা রয়েছে, তারা নানা সময়ে নব্বইয়ের দশকের অমিতাভ বচ্চনকে মিমিক করে। প্রসেনজিৎ দাদা দোস্তজী নিয়ে অমিতাভ বচ্চনকে বলেন, এমন একটা সিনেমা আছে, আপনার যদি সময় হয় দেখতে পারেন। তখন অমিতাভ বচ্চন সিনেমাটি পাঠাতে বলেন। প্রসেনজিৎ দা সিনেমাটা পাঠান এবং এর তিন দিনের মাথায় মিস্টার বচ্চন এটা দেখে টুইট করেন। ওই সময় সিনেমা মুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রথমে খেয়াল করিনি, যখন দেখলাম অমিতাভ বচ্চন সিনেমাটি দেখে টুইট করেছেন, আমি অবাক। এটা জীবনের খুব ভালো লাগার একটা মুহূর্ত। 

হাওয়ার শো হলো কলকাতায়। বাংলাদেশে কী দোস্তজী আসতে যাচ্ছে?

সাধারণ দর্শকের দেখার ক্ষেত্রে হয়তো শেষ অবধি ওটিটি প্লাটফর্মই ভরসা। একটা কথা চলছিল যে কলকাতায় হাওয়া মুক্তি পাবে এবং বাংলাদেশে দোস্তজী। আমার ব্যস্ততা এবং বিভিন্ন কারণে সিনেমা দুটোর বিনিময় সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের থিয়েটারে দোস্তজী দেখা যাবে কিনা, এ নিয়ে আমি এখনো নিশ্চিত নই। তবে কয়েক মাস পর ওটিটিতে দেখা যাবে। 

এবার কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জুরি ছিলেন আপনি। বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা ছিল এ উৎসবে। কোনো সিনেমা কি দেখা হয়েছে আপনার? 

সুমনের সঙ্গে দেখা হয়নি। একটা প্যানেল ডিসকাশনে অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও মেজবাউর রহমান সুমনের সঙ্গে থাকার কথা ছিল আমার। কিন্তু কোনো একটা কারণে সুমনকে যেতে হয় বাংলাদেশে। দুর্ভাগ্যবশত হাওয়া ফেস্টিভ্যালে দেখার সুযোগ হয়নি, কারণ জুরি থাকায় অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তবে আমি সিনেমাটা দেখব, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। হাওয়া না দেখা হলেও কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে চঞ্চল দাদার সঙ্গে দেখা হয়েছে। অন্যদিকে কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া দেখা হয়েছে। এটা অসাধারণ একটি সিনেমা, নির্মাতা মুহাম্মদ কাইয়ুম ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথাও হয়েছে। 

বাংলাদেশের নির্মাতাদের নিয়ে আপনার ভাবনা?

বাংলাদেশে আমার অনেক বন্ধু, বড় ভাই আছেন। এদের মধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাই আমার বড় ভাই ও শিক্ষক। একেবারে দোস্তজীর শুরুর দিকে যখন আমাদের কোনো প্রযোজক ছিল না, সে সময় থেকেই ফারুকী দা আমাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্মাণের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পরিচালকরা পশ্চিমবঙ্গের পরিচালকদের থেকে এগিয়ে। আতিক ভাই, সাদ, নুহাশসহ অনেকেই খুব ভালো করছে। যদিও এখন অনেকের নাম বাদ পড়ছে। আমি যখন স্কুল শেষে কলেজে যাই, তখন থেকেই আমি ফারুকী ভাইয়ের ফ্যান। আমি বাংলাদেশের কনটেন্ট দেখি। 

বাংলাদেশের কোনো পরিচালকের সঙ্গে যৌথ পরিচালনা কিংবা যৌথ প্রযোজনার কোনো সিনেমা পরিচালনার সুযোগ পেলে করবেন কি?

আমার সামনে অনেকগুলো কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। এক মাসের বিরতি নিয়ে আমি কোন কাজটা আগে করব, সে সিদ্ধান্ত নেব। যদি বাংলা সিনেমাই করি, তাহলে এর বেশির ভাগ বাংলাদেশে শুটিং করব। এতে বাংলাদেশের অনেক তারকাও থাকবেন। বাংলাদেশ ছেড়ে আমি যাই কোথায়! আমার শিকড় তো বাংলাদেশেই! আমার বাবা-মায়ের জন্ম বাংলাদেশে। যদিও আমি একবারই গিয়েছি ওই দেশে। গত বছর ঢাকা ফেস্টিভ্যালের সময় গিয়েছিলাম। ওখান থেকে আমার বাবার বাড়ি বিক্রমপুরে আমি গিয়েছিলাম। আমি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় কাজ করতে চাই।