মুক্তির পরপরই বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে ‘অ্যানিমেল’। মাত্র দুদিনে সিনেমাটির আয় ২৩৬ কোটি। বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে। বিশেষ করে আলোচিত হয়েছে আবরার হক চরিত্র। প্রতিশোধ নিতে মরিয়া খলনায়ক চরিত্রটিকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন ববি দেওল। বিষয়টি নিয়ে পিটিআইয়ের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন ধর্মেন্দ্রপুত্র। দাবি করেছেন, কোনো প্রকার জাজমেন্টাল অবস্থানে না গিয়ে চরিত্রের প্রয়োজনেই নিজেকে তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ভালো ও মন্দ দিক আছে। কিছু কিছু সময় মন্দ দিকটা বের হয়ে আসে। অভিনেতা হিসেবে সে চরিত্রকে ধারণ করতে হয়। সেখানে আসলে খারাপ কিছু নেই। আমি যা করছি, ঠিক করছি। এক্ষেত্রে চরিত্রের ঠিক ও ভুলের বিচার করার প্রবণতা ভুলে যেতে হবে।’

অ্যানিমেল পরিচালনা করেছেন সন্দ্বীপ রেড্ডি ভাঙ্গা। চিত্রিত হয়েছে সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে রণবিজয় সিং ও পিতা বলবীর সিংহর মধ্যকার সম্পর্ক। যেখানে রণবিজয় ও বলবীর চরিত্রে রয়েছেন যথাক্রমে রণবীর কাপুর ও অনীল কাপুর। সেখানে ভিন্ন মাত্রা নিয়ে এসেছে ববি দেওলের আবরার হক। দেওল মনে করেন, চরিত্রের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ নিয়ে তার মধ্যে কোনো দ্বিধা কাজ করেনি। কারণ পেছনে আশ্বস্ত হওয়ার মতো যথেষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘‌আমি এমন কোনো পরিস্থিতিতে পড়িনি, যেটা নিয়ে আশ্বস্ত নই। নিজেকে আবরার হিসেবেই অনুভব করেছি। সে ঠিক যতটা বর্বর, ঠিক ততটা নিয়েই অভিনয় করতে হয়েছে। আবরার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া। আর কেউ যখন মরিয়া থাকে, তখন ভালো আর মন্দের মধ্যকার পার্থক্য দেখতে পারে না। কাউকে শেষ করে দেয়াই তখন তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে। সিনেমায় সে নানা ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। সেটাই তাকে পাশবিক চরিত্রে পরিণত করেছে।’ 

‘‌আশ্রম’ ও ‘‌লাভ হোস্টেল’-এর মধ্য দিয়ে খল চরিত্রে নিজের আসন পোক্ত করেছেন ববি দেওল। অ্যানিমেলে এসে তা আরো একবার প্রমাণিত হলো। যদিও কেউ কেউ মাত্রাধিক সহিংসতার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু ৫৪ বছর বয়সী দেওল মনে করেন, সবাই গ্রহণ করে নেবে, এমন কোনো সিনেমা বানানো আসলে অসম্ভব। সিনেমাটিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন রাশমিকা মান্দানা, তৃপ্তি দিমরি, শক্তি কাপুর, সুরেশ ওবেরয় ও প্রেম চোপড়া।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ