প্রায় দুই দশক ধরে বাবার প্রতিষ্ঠিত ধর্ম
প্রোডাকশনের দায়িত্বে রয়েছেন করণ জোহর। বলা হয়, তার হাত ধরে হিন্দি সিনেমায় নতুন যুগ
নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উপহার দিয়েছে বহু ব্যবসাসফল সিনেমা। ফলে চলচ্চিত্র শিল্পে
তার অভিজ্ঞতা বিচিত্র।
সম্প্রতি রূপালি জগত সম্পর্কে অভিজ্ঞতার কিছু
দিন তুলে আনেন এ নির্মাতা। বললেন, সিনেমা বানানোর পেছনে বিদ্যমান হিসাবনিকাশ। নিয়ন্ত্রণের
লাগাম না থাকলে হিট সিনেমা থেকেও গচ্চা দিতে হয় প্রযোজককে।
করণের ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্র নির্মাণের
আগেই অর্থনৈতিক বিষয়টা নিয়ে নিশ্চিত হতে হয় নির্মাতাকে। নির্মাণ ও প্রচারণা বাবদ যা
খরচ হয়, ততটুকু তুলে আনতে হয় ডিজিটাল রাইট, মিউজিক রাইট ও প্রেক্ষাগৃহ থেকে।
ধরা যাক, কোনো সিনেমা তৈরিতে ৭৫ ও প্রচারণায়
১৫ কোটি রুপি ব্যয় হবে। কাজ হাত দেয়া আগেই হিসাব করতে হয়, চলচ্চিত্রটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে
৪০ কোটি, স্যাটেলাইট চ্যানেলে ২০ কোটি ও মিউজিকে ১৫ কোটি রুপি আয় করতে পারবে কিনা।
যদি এই তিন খাতে ৭৫ কোটি ও তার সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহ থেকে ৪০ কোটি রুপি ঝুলিতে আসার সম্ভাবনা
থাকে, তাহলে হাত দেয়া যায়। অন্যথায় ঝুঁকি থেকে যায়। অবশ্য তারপরও ঝুঁকি থেকে যায়।
বর্তমানে কোন সিনেমার ব্যাপারে পূর্ব থেকে
হিসেব করা সম্ভব নয় বলে জানান করণ। কিছু সিনেমা হিট হলেও অর্থনৈতিক ভরাডুবি হতে পারে।
বিপরীতে কিছু সিনেমা ফ্লপ হয়েও লাভজনক হয়ে ওঠে।
উদাহরণ হিসেবে 'স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার'-এর
কথা তুলে ধরেন নির্মাতা। সিনেমাটি বক্স অফিসে ৭০ কোটি রুপিরও বেশি ব্যবসা করেছিল এবং
বিদেশেও ছিল ভালো আয়। কিন্তু খোয়াতে হয়েছিল বড় অঙ্কের অর্থ। তিনি বলছিলেন, ‘আমি
সেই ছবিতে পাগলের মতো ব্যয় করেছি। ১৫-২০ কোটি রুপির মতো হারিয়েছি আমরা।’
ক্ষতিটা অবশ্য পুষিয়ে নিতে হয়েছে অন্যভাবে।
এ ছবিতে অভিষেক হয় আলিয়া ভাট, বরুণ ধাওয়ান ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রার। তাদের সঙ্গে চুক্তি
থাকায় পরবর্তী তিন ছবির ক্ষেত্রে করণ জোহর কিছুটা সুবিধা পান। সেখান থেকে ‘স্টুডেন্ট
অব দ্য ইয়ার’-এর ক্ষতি পুষিয়ে নেন।
আরো বলেন, কোন সিনেমা ফ্লপ হওয়ার প্রধান কারণ
মূলত খরচকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা। ছোট সিনেমাতেও লাভ তুলে আনা সম্ভব। কোনো সিনেমা
৫০ কোটি রুপি খরচ করেছে। দেখা গেল ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট মিলিয়ে তার ঝুলিতে ওঠেছে ৬০
কোটি রুপি। অর্থাৎ প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার আগেই লাভের হাসি হেসে ফেলেছে। বিপুল বাজেটের
সিনেমায় বিপুল পয়সার দেয়া-নেয়া হয়। সেখানে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে করণ জোহরের দাবি অনুযায়ী
ব্যয়ের পয়সা বাজার থেকে তুলে আনা সম্ভব না।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে










