হালের হলিউডে সাড়া জাগানো দুটি চলচ্চিত্র বারবি ও ওপেনহেইমার। সাধারণত একসঙ্গে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রের মধ্যে বক্স অফিসে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত ২১ জুলাই মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র দুটি দেখিয়েছে ব্যতিক্রম চিত্র। ‘বারবেনহেইমার’ পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক সংস্কৃতির জনপ্রিয় ট্রেন্ডে। গ্রেটা গেরউইগের বারবির প্রতি আগ্রহী মূলত নারী ও তুলনামূলকভাবে কম বয়সীরা। চলচ্চিত্রের আগে বারবি পুতুল হিসেবেই পরিচিত ছিল ফ্যাশন দুনিয়ায়। বিপরীত দিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ওপেনহেইমার বায়োপিক। প্রথমটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন মার্গো রবি আর দ্বিতীয়টিতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন কিলিয়ান মারফি। সম্প্রতি মুখোমুখি আলাপচারিতায় চলচ্চিত্র-পরবর্তী তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন এ দুই জনপ্রিয় তারকা।
বৈশ্বিকভাবে বারবির আয় ১৪০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। মার্গো রবি দাবি করেছেন, বারবিতে কাজ শুরুর আগেই তিনি ৯০ শতাংশ নিশ্চিত ছিলেন সফলতা নিয়ে। তবে কল্পনাও করেননি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এতটা গভীরভাবে নাড়া দিতে যাচ্ছে বারবি। এক্ষেত্রে পরিচালক গ্রেটা গেরউউগের কৃতিত্ব স্বীকার করেছেন তিনি। একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ওপেনহেইমার ঝুলিতে তুলেছে ৯৫০ কোটি ডলারের বেশি। মারফির জন্য বিষয়টা বিস্ময়কর ছিল বটে। আণবিক বোমার জনক জে. রবার্ট ওপেনহেইমারের জীবন নিয়ে করা সিনেমা নিয়ে তিনি নিজেও এতটা কল্পনা করেননি। যদিও নোলানের সিনেমায় কাজ করার জন্য মরিয়া ছিলেন এ অভিনেতা। বারবি ও ওপেনহেইমার মুখোমুখি হয়ে পড়লে মুক্তির তারিখ পেছানো নিয়েও গুঞ্জন উঠেছিল শুরুতে। কিন্তু কেউ মুক্তির তারিখ পেছায়নি। রবি মনে করেন, মানুষ সমানভাবে উৎকণ্ঠায় ছিল নোলান ও গ্রেটা গেরউইগের পরবর্তী সিনেমা নিয়ে। ওপেনহেইমার নোলানের সঙ্গে কিলিয়ান মারফির ষষ্ঠ সিনেমা ছিল। দুজন ২০ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করলেও দাপুটে কোনো চরিত্র পাননি মারফি। নোলানের ব্যাটম্যান ট্রিলজির দুটি সিনেমা, ডানকার্ক ও ইনসেপশনে মারফিকে দেখা যায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে। সেদিক থেকে ওপেনহেইমারেই প্রথমবারের মতো পরিপূর্ণ ও প্রধান চরিত্রে রয়েছেন তিনি। বিষয়টির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ক্রিস্টোফার নোলান কোনো ফোন ব্যবহার করেন না। তার স্ত্রী এমা থমাসই ফোন করে তাকে জানায় নতুন চলচ্চিত্রের কথা। মারফি প্রথম দিকে আগের মতোই ধরে নিয়েছিলেন ছোট-খাটো কোনো চরিত্রই তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দ্রুত বুঝতে পারেন, তার চরিত্রই সিনেমাটিতে প্রধান।
এদিকে বারবির জন্য নিজেকে তৈরি করাটাও রবির জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা ছিল। তাকে পুরোপুরি পরিবর্তন আনতে হয় জীবনযাত্রায়। একপর্যায়ে নিজের ওপর হতাশও হয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। গ্রেটাই তাকে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে তখন।
সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি










