বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অমর কণ্ঠ সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে নির্মিত ডকুফিল্ম ‘জুঁইফুল: সাবিনা ইয়াসমিন’ সম্প্রতি চ্যানেল আইতে বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে উন্মোচন হলো। ২৬ আগস্ট বিকালে এ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী নিজে এবং ডকুফিল্মের নির্মাতা শাইখ সিরাজ। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।

শিল্পীকে স্বাগত জানাতে চ্যানেল আই কার্যালয়ে লালগালিচা বিছিয়ে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান শাইখ সিরাজ। ডকুফিল্মটি দেখার পর সাবিনা ইয়াসমিন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না। কীভাবে প্রকাশ করব জানি না। শাইখ সিরাজ ভাই আমাকে নিয়ে এমন সুন্দর ডকুফিল্ম করেছেন, যা দেখে আমি অবাক। এতটা দারুণ এবং গোছানো হবে ভাবিনি।’

‘জুঁইফুল: সাবিনা ইয়াসমিন’-এ উঠে এসেছে শিল্পীর ষাটের দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দীর্ঘ সংগীতজীবন। ডকুফিল্মে ফুটে উঠেছে সাবিনা ইয়াসমিনের সংগ্রাম, সাফল্য, হাসি, আবেগ এবং অজানা অনেক গল্প। নির্মাতা শাইখ সিরাজ তিন ধাপে শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সমান্তরাল সম্পাদনায় সাবিনা ইয়াসমিনের জীবনের স্মৃতিময় গল্পগুলো দর্শকের সামনে আসে।

ডকুফিল্মে জানা যাবে, প্রথম গান গেয়ে তিনি কত পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, প্রথম শোতে আয়োজকরা কী উপহার দিয়েছিলেন এবং মাত্র ১২ বছর বয়সে আলতাফ মাহমুদের হাত ধরে সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ কীভাবে পেলেন। এছাড়া দেখা যাবে, কীভাবে দিলশাদ ইয়াসমিন থেকে তিনি হয়ে উঠলেন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের প্রিয় কণ্ঠস্বর।

শাইখ সিরাজ সাংবাদিকদের জানান, ডকুফিল্ম নির্মাণের আগে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয়েছে গবেষণায়। শুটিং শেষে অনেক সময় লেগেছে সম্পাদনায়, যাতে শিল্পীর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাইছি সাবিনা ইয়াসমিনের সংগ্রাম, সাফল্য এবং শিল্পীসত্তার গল্প পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক। এটি আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’

ডকুফিল্মটি চ্যানেল আইতে সম্প্রচার হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ২টা ৪০ মিনিটে।